আশা করি ১১-১২ লাখ ট্যাহায় কালা মানিককে বেচতো পারমু

0
414
Spread the love

ব্যক্তিপর্যায়ে এত বড় গরু আশেপাশের এলাকায় না থাকায় মানুষের আগ্রহের যেন শেষ নেই ।

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় এবারের কোরবানির ঈদের আকর্ষণ ‘কালা মানিক’। দৈত্যাকার এই গরুটি লম্বায় ৯ ফুট ১০ ইঞ্চি, উচ্চতায় ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি এবং রঙ কুচকুচে কালো।

উপজেলার মহেলা গ্রামের গরু কালা মানিককে খামারে লালন পালন করছেন। বিশাল আকৃতির কালা মানিককে দেখতে প্রতিদিন ভীড় জমাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ।

রঙমিস্ত্রি মোস্তফা তিন বছর আগে পাশের গ্রামের ওয়াশিম নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকায় শাহীয়াল জাতের একটি বাছুর কিনে আনেন। অনেক কষ্ট করে স্ত্রী রাশিদাকে নিয়ে তিনি বাছুরটিকে বড় করেছেন। মোস্তফা-রাশিদা দম্পতি ষাঁড়টির নাম রেখেছেন ‘কালা মানিক’। লালন-পালন করে কালা মানিকের ওজন এখন প্রায় ৩৫ মণ। ব্যক্তিপর্যায়ে এত বড় গরু আশেপাশের এলাকায় না থাকায় মানুষের আগ্রহের যেন শেষ নেই ।

রাশিদা বেগম বলেন, ‘অনেক কষ্ট কইরা বাছুরটিকে বড় করছি। বুট, মাশকলাই ও মসুরের ছোলা, কুড়া, খৈল, মোটা ভূসি, আলু, ভুট্টা, কাঁচা ঘাস নিয়মিত খাওয়াই। এ ছাড়া কলা, আপেল ও মালটা ট্যাহা অইলেই খাওয়াই। দিন-রাইতে পাঁচ-ছয়বার খাবার খাওয়ান লাগে। গত চার মাস ধইরা প্রতিদিন   ৬০০ টাকার খাবার লাগতাছে।  দিনে দুই-তিনবার গরুটিকে গোসল করাইতে হয়। গরুর পানির জন্য মটর ও বাতাসের জন্য ফ্যান গোয়াল ঘরে লাগাইছি। ঘরে বাইরে আনা-নেওয়ার জন্য কয়েকজন মানুষ লাগে।’

গরু দেখতে আসা অনেকেই বলেন, বিশাল আকৃতির গরুটি বানাতে এই দম্পতির অনেক কষ্ট হয়েছে। উপযুক্ত দাম পাওয়া উচিত।

কালা মানিকের মালিক মোস্তফা বলেন, ‘বাড়িতে এসে অনেকেই দেখতাছে এবং দাম করতাছে। বাড়িতে বেচা না অইলে ঈদের দুই-তিন দিন আগে গরুটি নারায়নগঞ্জে হাটে উডাবো। আশা করি ১১-১২ লাখ ট্যাহায় বেচতো পারমু। আমার সন্তানের ল্যাহান গরুটিকে বড় করছি। বেচার ট্যাহা দিয়া আমার দুটি ছেলে ভালভাবে পড়ামু, একটি ঘর দিমু এবং আরও কয়েকটি গরু কিনমু।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here