হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগ ছেড়ে ডাঃ আবু রেজা ঔষধ কোঃ”র ব্যবসায়ী। চিকিৎকের ১১০ নাম্বার রুমের বাইরে গিফট নিয়ে ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা

0
31
হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগ ছেড়ে ডাঃ আবু রেজা ঔষধ কোঃ”র ব্যবসায়ী। চিকিৎকের ১১০ নাম্বার রুমের বাইরে গিফট নিয়ে ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা
হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগ ছেড়ে ডাঃ আবু রেজা ঔষধ কোঃ”র ব্যবসায়ী। চিকিৎকের ১১০ নাম্বার রুমের বাইরে গিফট নিয়ে ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা
Spread the love

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি|| হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগ ছেড়ে ডাঃ আবু রেজা ঔষধ কোঃ”র ব্যবসায়ী।
চিকিৎকের ১১০ নাম্বার রুমের বাইরে গিফট নিয়ে ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা

হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগ ছেড়ে ডাঃ আবু রেজা ঔষধ কোঃ”র ব্যবসায়ী। চিকিৎকের ১১০ নাম্বার রুমের বাইরে গিফট নিয়ে ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা
হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগ ছেড়ে ডাঃ আবু রেজা ঔষধ কোঃ”র ব্যবসায়ী।
চিকিৎকের ১১০ নাম্বার রুমের বাইরে গিফট নিয়ে ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা

সাপ্তাহিক একদিন অফিস টাইমে ডাক্তারদের ভিজিট করতে সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়ার পরও এই নিয়ম তোয়াক্কাই করছেন না ডাক্তার আবু রেজা। দিনভর ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দখলে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল।

সকাল থেকেই তারা ওয়ার্ডগুলোতে অবাধ বিচরণ করতে থাকেন। দলে দলে ভাগ হয়ে হাসপাতালের ভেতরে সামনে অবস্থান নিয়ে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে টানা হেঁচড়া করেন। দেখেন কোন কোম্পানির ওষুধ সেখানে লেখা হয়েছে।
অনেকে আবার রোগীদের বলে দেন পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথাও। কেউবা নিজেদের মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে বলেন অমুক ক্লিনিকে পরীক্ষা করান। বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঢুকে সিস্টারদের কাছে থাকা রোগীদের ফাইল নিয়েও টানাটানি করেন তারা। সেবিকারাও নির্দিধায় ফাইল দিয়ে দেন তাদের কাছে তারা।

সোমবার রাত ১১ টার সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দ্বায়ীত্বরত চিকিৎক আবু রেজা
জরুরী বিভাগে রুগী না দেখে চিকিৎসকদের বিশ্রাম নেওয়ার জন্য ১১০ নং রুমে গিফটের এবং ঔষধ কোম্পানীর কাজ থেকে উৎকুচ সবার সামনে না নিয়ে ১১০ নং রুমে রুগী রেখেই
ওষুধ কোম্পানির কয়েকজন প্রতিনিধিদের নিয়ে ঐ রুমে এসবেই ব্যস্থ থাকেন দেখা যায়। এসময়
স্থানীয় সাংবাদিকরা জিজ্ঞাসা করতে গেলে চিকিৎক আবু রেজা অশুভ আচারন করেন। এমনকি ছবি তুলতে গেলে তিনি বলে উঠেন সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন কত সাংবাদিক আছে ওরা কি এমন করবে কুটুক্তিও করেন এবং একজন চিকিৎসক হয়েও মার মুখি
হয়ে এগিয়ে আসেন।
এ সময় একজন ঔষধ কোম্পানি পরিচয় জানতে চাইলে তাদের একজন নিজেকে জিসকা কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেন। একই সময় হাসপাতালের নিচতলায় বহির্বিভাগের গেটের সামনে অবস্থান করছিলেন
আরো ১০/১২ জন কয়েকটি কোম্পানির হয়ে প্রতিনিধি।
ওষুধ বিতরণ কেন্দ্রের সামনে অবস্থান নিয়ে রোগীর ব্যবস্থাপত্রের ছবি তুলছিলেন প্রতিনিধিরা সুজন। জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, কারও সমস্যা সৃষ্টি করছেন না। শুধু ছবি তুলছেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, অফিস সময়ে ডাক্তারদের নিয়ম থাকলেও তা তোয়াক্কাই করছেন না চিকিৎক বা কোম্পানির প্রতিনিধিরা। হাসপাতালে যাওয়ার নিয়ম থাকলেও সকাল ১০টার আগেই দলে দলে ভাগ হয়ে সেখানে অবস্থান নিচ্ছেন প্রতিনিধিরা। হাসপাতালের ডাক্তারদের বিভিন্ন কক্ষের সামনের রোগীদের ভিড় থাকার সুযোগ নেন তারা। কক্ষ থেকে রোগী বের হওয়া মাত্রই তাদের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে একেকজন টানাটানি শুরু করে দেন। ডাক্তার কোন কোম্পানির ওষুধ লিখেছেন তা জানার চেষ্টা করেন। কেউ কেউ আবার একটি ওষুধের বদলে নিজের কোম্পানির ওষুধ কেনার পরামর্শ দেন। কেউ আবার সুযোগ বুঝে ঢুকে পড়েন ডাক্তারের কক্ষে। রোগী দেখার সময় সেখানে অবস্থান নিয়ে তিনি নিজের কোম্পানির ওষুধ লেখানোর চেষ্টা করেন।
সকাল থেকে জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগের চক্ষু কক্ষের সামনে অবস্থান করছিলেন বেশ কয়েকজন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি। এ সময় হাসপাতালে রোগীর ভিড় ছিল মারাত্মক। অবস্থান নেন হাসপাতালের মূল ভবনের প্রবেশকক্ষের গেটের সামনে।
এ অবস্থায় নার্স, ব্রাদাররা যেন অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েন। রোগীসহ তাদের স্বজনরাও মারাত্মক বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আধুনিক সদর হাসপাতালের (আরএমও) ডাঃ মুমিন এর সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান এসময়ে ঔষধ কোম্পানীর সাথে সম্পৃক্ত থাকার কোন নিয়ম নেই। তিনি আরো জানান, সাপ্তাহে ১ দিন (সোমবার) তাও অফিস চলাকালীন সময়ে ঔষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের হাসপাতালে আসা সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া এটি তারা করতে পারেন না। এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে তাদের সমিতিকে অবহিত করা হয়েছে। চিঠি দেয়া হয়েছে। এতে প্রথমে কয়েকদিন তারা বিরত থাকেন। কিন্তু কয়েকদিন পর আবার হাসপাতালে ছুটে আসেন। তবে এ বিষয়টি আসলেই দুঃখজনক।
এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ এ কে এম মোস্তফিজুর এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আসলে এ ধরনের ঘটনা আসলেই দুঃখজনক। আমি বর্তমানে গাড়িতে আছি। এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এর সাথে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেন। তিনি এও বলেন আমি আগামীকাল এ বিষয়টি নিজে দেখব।
পরে এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এর সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তাঁর ফোন নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।

Leave a Reply