হত্যাকারীদের পুড়িয়ে মারার শাস্তি চান নুসরাতের মা

0
206
Spread the love

বহুল আলোচিত ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার রায় বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর ঘোষণা করা হবে। ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ গত ৩০ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য করেন।

নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের রায় ঘোষণাকে সামনে রেখে সোনাগাজীতে বিরাজ করছে টান টান উত্তেজনা। ফেনী ও সোনাগাজীতে বিভিন্নস্থানে বাড়তি নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নুসরাতের মা শিরিন আক্তার মেয়ের হত্যাকারীদের কঠিন শাস্তি দেখতে চান বলে জানিয়েছেন।

বুধবার দুপুরে ফেনীর সোনাগাজী পৌর এলাকার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামে নুসরাতের বাড়িতে স্থানীয় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, চোখ বুঝলেই ভেসে ওঠে আগুনে ঝলসে যাওয়া নুসরাতের বিকৃত দেহ, মেয়ের শরীরের পোড়া মাংসের গন্ধ এখনও নাকে এসে লাগে। আমি ঘুমাতে পারি না।

নুসরাত হত্যা মামলার অভিযুক্ত প্রত্যেক আসামির সর্বোচ্চ সাজা দেখতে চান জানিয়ে শিরিন আক্তার বলেন, আমার একমাত্র মেয়েকে ঘাতকরা যেভাবে হাত-পা বেঁধে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, তেমন কঠিন সাজা যেন দেয়া হয় অভিযুক্ত প্রত্যেক আসামিকে। তাদের ফাঁসি দিলে তারা বিনা যন্ত্রণায় মরে যাবে। তাদেরও আমার মেয়ের মতো পুড়িয়ে সাজা কার্যকর করলে মৃত্যুর যন্ত্রণা বুঝতে পারত।

রায় ঘোষণার পর দ্রুত তা কার্যকর ও পরিবারের সদস্যদের বাড়তি নিরাপত্তাও চান তিনি।

সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন নুসরাত। গত ২৭ মার্চ ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে তিনি যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেয়া হয়। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে ওই মাদরাসার কেন্দ্রে যান নুসরাত ।এ সময় তাকে পাশের বহুতল ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়া হয়। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফেরার দেশে চলে যান যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদের কারণে গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে দেয়া ফেনীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here