এক্সপ্রেসওয়ে
সম্পাদকীয়ঃ
বৃহস্পতিবার থেকে টানা তিনদিনই দেশের প্রায় প্রতিটি গণমাধ্যমেরই অন্যতম শিরোনাম ছিল “৩৫ কিলোমিটার দুরত্বে যেতে সময় লাগবে ২৭ মিনিট”। শুধু পত্রিকার পাতাতেই নয় অধিকাংশ টেলিভিশনের সংবাদেরও  ছিল মুল আকর্ষণ।
খবরটি শুনে আমার কৌতূহলী মনেও নাড়া দিল বিষয়টি। প্রথমে ভাবলাম সত্যিই যদি ৩৫ কিলো যেতে ২৭ মিনিট সময় লাগে তাহলেতো দেশের অগ্রযাত্রা নিশ্চই একুশ ছুই ছুই। তাই নিজেকেও কিছুটা একুশ বানানোর চেষ্টা।

মাওয়া-ভাঙ্গা-এক্সপ্রেসওয়ের

শনিবার সকাল সাড়ে আটটা । কৌতূহলী মনের ইচ্ছাকে বাস্তবে রুপ দিতে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে ব্যাক্তিগত গাড়ি নিয়ে স্বপ্নের এক্সপ্রেসওয়েতে আমাদের গন্তব্য।  আমরা যখন প্রথম বুড়িগঙ্গা সেতুতে ঠিক তখনি চোখ পড়লো হাতে থাকা ঘড়িতে। এরই মাঝে কৃত্বিম যানজটে সময় অতিক্রম হয়েছে ২৫ মিনিট। চোখে পড়লো টোল আদায়ের পুরনো সেই গণ চাঁদাবাজির দৃশ্য । যে ইতিহাস ইতোমধ্যেই অতিক্রম করেছে ৩০ বছর । তাই প্রচলিত সেই টোল নামক চাদাবাজির ঐতিয্য রক্ষায় ২৭ মিনিটের এক্সপ্রেসওয়ের প্রথম বুড়িগঙ্গা সেতু পাড়ি দিতেই ব্যায় হল ২৫ মিনিট।
এক্সপ্রেসওয়ে
এবার কৌতূহলী মনের দরজায় করা নাড়লো আমিও এক্সপ্রেসওয়েতে চলাচলকারী হাজারো যাত্রীর মত সাধারণ একজন । তাই টোলের আওতা থেকে নিজেকে পাশ কাটাতে পারলামনা । তারপর ঘড়ির দিকে না তাকিয়ে সদ্য খুলে দেয়া এক্সপ্রেসওয়ের রাস্তায় দৃষ্টি মনোনিবেশ করে সামনে এগুতেই চোখে পড়লো অদক্ষ চালকদের হাতে পুরনো সেই লক্কর ঝক্কর গাড়ীর প্রতিযোগিতা । উল্টো রাস্তায় চলছে ট্রাক, ফটফট শব্দে এগুচ্ছে সিএনজির।

 

55

কিছুক্ষন পর পর গাড়ির গতি রোধ করে মানুষের ছুটে চলাকেই প্রাধ্যান্য দিতে হবে এখানেও। এইরকম একটি এক্সপ্রেসওয়েতে অনিয়মতান্ত্রিক মানুষের রাস্তা পার হওয়ার গতি রোধে নেই কোন বিশেষ ব্যাবস্থা। আর হাইওয়ে পুলিশের উপস্থিতি যেন আমাবশ্যায় চাঁদের আবির্ভাব। এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ কৌশলী পত্রে ছোট কাল্ভারট যাত্রী ছাউনি, আন্ডারপাস সহ ২৫ থেকে ৩০ টি স্থানে পাড়াপারে বিশেষ ব্যাবস্থার কথা থাকলেও তা চোখে পরেনি ।
অবশেষে পুরনো সব অনিয়মে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে পাড়ি দিলাম দেশের প্রথম ঢাকা – মাওয়া ৬ লেন এক্সপ্রেসওয়ে। যাতে সময় লাগলো ৪৫ মিনিট। হয়তো সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উদাসীনতাই আমার ২৭ মিনিটের যাত্রাকে ৪৫-এ ঠেকিয়েছে । তাতেকি আমার মত দুই একজন যাত্রীর এই অভিজ্ঞতা সরকার থোরাই কেয়ার করে ? আমিও চাই অন্য সকল যাত্রীর মতই বাধাহীন ভাবে একুশে পদার্পণ করতে ।
গত ১২ই মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করেন।

Leave a Reply