ছয় বছর আগে রাজধানীর পল্লবীতে একটি গায়েহলুদের অনুষ্ঠান থেকে ইশতিয়াক হোসেন (জনি) ও তাঁর ভাই ইমতিয়াজ হোসেনকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। পল্লবী থানায় ইমতিয়াজকে বেধড়ক পেটাতে শুরু করে পুলিশ। তখন বড় ভাই ইশতিয়াক তাতে বাধা দিলে তাঁকে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে ইশতিয়াকের বুকের ওপর পা দিয়ে চেপে ধরেন এসআই জাহিদুর রহমান। ইশতিয়াক একটু পানির জন্য আকুতি জানান। পানি না দিয়ে তাঁর মুখে থুতু ছিটিয়ে দেন এসআই জাহিদ।

থানা হেফাজতে নির্যাতনে ইশতিয়াক মৃত্যুর ঘটনায় মামলার রায় ঘোষণার সময় পানি চাইলে মুখে থুথু দেওয়ার কথা তুলে ধরেন বিচারক। তিনি থানা হেফাজতে পুলিশের এমন আচরণকে ‘চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন’ বলে মন্তব্য করেন। গতকাল বুধবার মামলাটির রায় দেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ।

মামলার রায়ে পল্লবী থানার তৎ​কালীন উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুর রহমান, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রাশেদুল ইসলাম ও এএসআই কামরুজ্জামানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এঁদের প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে বাদী বা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অপর দুই আসামি পুলিশের সোর্স (তথ্যদাতা) সুমন ও রাসেলের সাত বছর কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা করে জরিমানার ​আদেশ দিয়েছেন আদালত।

টি সাত বছর আগে পাস হওয়া নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে করা কোনো মামলার প্রথম রায়। ২০১৩ সালে আইনটি পাস হয়। রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নিহত ইশতিয়াকের ছোট ভাই ও মামলার বাদী ইমতিয়াজ হোসেন। তিনি বলেন, তাঁর ভাইকে থানায় ধরে নিয়ে পৈশাচিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল। যার কারণে তিনি মারা যান। ইশতিয়াক জানান, পুলিশের বিরুদ্ধে করা এই মামলার বিচার পেতে তাঁদের অনেক বাধাবিপত্তি পেরোতে হয়েছে। এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষকে সহযোগিতা করছেন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)।

Leave a Reply