সাইবার হামলা চালিয়ে ‘২০০ কোটি ডলার চুরি’ করেছে উ. কোরিয়া

0
202
Spread the love

অস্ত্র কর্মসূচির জন্য অর্থ জোগান দিতে সাইবার হামলার মাধ্যমে দুই শ কোটি মার্কিন ডলার চুরি করেছে উত্তর কোরিয়া। জাতিসংঘের ফাঁস হওয়া এক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে। গোপন ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অর্থ সংগ্রহ করতে পিয়ংইয়ং ব্যাংক ও ক্রিপ্টো-কারেন্সি বিনিময়কে টার্গেট করেছে। এমন ৩৫টি সাইবার হামলার তদন্ত করছে জাতিসংঘ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।

২০১৮ সালে পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধ এবং আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা না চালানোর ঘোষণা দেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয় একটি পারমাণবিক স্থাপনা। এর মাঝে কয়েকবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। গত মাসে কৌশলগত নিয়ন্ত্রিত অস্ত্র পরীক্ষার কথা স্বীকার করে পিয়ংইয়ং। গত জুনে ট্রাম্প ও উনের মধ্যে সাক্ষাতের পর গত সপ্তাহেই প্রথমবারের মতো ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে উত্তর কোরিয়া। ২৫ জুলাই দুটি পরীক্ষা চালায় তারা। এরপর ৩১ জুলাই দ্বিতীয়বারের মতো স্বল্পপাল্লার আরও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে পিয়ংইয়ং। এর আগে গত শুক্রবার (২ আগস্ট) দুটি প্রজেক্টাইল মিসাইল উৎক্ষেপণ করে উত্তর কোরিয়া। দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) চতুর্থবারের মতো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে দেশটি।

উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশটির নেতা কিম জং উন বলেছেন, শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি হিসেবে এ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এ সামরিক মহড়াকে শান্তি চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে পিয়ংইয়ং।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত কমিটির কাছে পাঠানো ওই ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ চুরি করতে এই সাইবার হামলা চালানো হয় এবং ক্রিপ্টো-কারেন্সি বিনিময়েও এই হামলা চালায় তারা।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার ক্ষতিকর সাইবার কার্যক্রম মোকাবিলায় সব দায়িত্বশীল রাষ্ট্রকে পদক্ষেপ নেওয়া আহ্বান জানিয়েছি। এই সাইবার হামলার মাধ্যমে অর্জিত রাজস্ব অবৈধ গণবিধ্বংসী অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সহায়তা করে।

উত্তর কোরিয়ার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য ডিজাইন করা সাইবার কার্যকলাপও তদন্ত করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ক্রিপ্টো-কারেন্সি লেনদেনে উত্তর কোরিয়ার সাইবার আক্রমণগুলো এমনভাবে করা হয়েছিল, যে তাদের চিহ্নিত করা কঠিন। প্রথাগত ব্যাংকিং খাতের তুলনায় সরকারের কম তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের সাপেক্ষ প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় তারা।

ফাঁস হওয়া ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া গণবিধ্বংসী অস্ত্র সংশ্লিষ্ট পণ্য অর্জন ও জাহাজে অবৈধ উপায়ে পরিবহনের মাধ্যমে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেছে।

২০০৬ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় তেল, লোহা, সীসা, টেক্সটাইল ও সিফুড রফতানি করতে পারবে না এবং অন্য দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানি করতে পারবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here