টানা দ্বিতীয়বারের মতো এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবল টুর্নামেন্টের চূড়ান্তপর্বের আয়োজক থাইল্যান্ড। স্বাগতিক হিসেবে টানা দ্বিতীয়বারের মতো খেলছে তারা। এশিয়ার ৪৭টি দেশের মধ্য থেকে বাছাইপর্ব পেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম ও অস্ট্রেলিয়া।

আগের আসরের চ্যাম্পিয়ন, রানার্স-আপ ও তৃতীয় হওয়ার সুবাদে মূলপর্বে জায়গা পেয়েছে উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট হলেও এটার গুরুত্ব কিংবা মাহাত্ব ফেলে দেওয়ার মতো নয়। তার ওপর এটা আগামী বছর ভারতে হতে যাওয়া অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ^কাপের এশিয়া অঞ্চলের বাছাইপর্ব হওয়ায় গুরুত্ব আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

তারপরও বিমানবন্দর থেকে চোনবুরি পর্যন্ত প্রায় দুই শ কিলোমিটার পথে কোথাও এই টুর্নামেন্ট সংক্রান্ত ব্যানার, ফেস্টুন কিংবা দেয়াল লিখন চোখে পড়ল না। টুর্নামেন্ট সম্পর্কে স্থানীয়দের জানার দৌড় নেই বললেই চলে। টিম হোটেল আরিজিতে এসে মূল ফটকে চোখে পড়ল ছোট্ট একটি ফেস্টুন। যেখানে এএফসির এই টুর্নামেন্ট সম্পর্কে লেখা রয়েছে।

এই টুর্নামেন্ট নিয়ে স্থানীয়দের আগ্রহ, প্রচার-প্রচারণা কিংবা কোনো উত্তাপ না থাকলেও ময়দানি লড়াইয়ে উত্তাপ ছড়াতে প্রস্তুত স্বাগতিক থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশ। র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ থাইল্যান্ডের মেয়েদের চেয়ে বেশ পিঠিয়ে থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে দল দুটি ঊনিশ-বিশ। ‘বি’ গ্রুপে অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের পাশাপাশি এই থাইল্যান্ড থাকায় বাংলাদেশ আশা করছে ভালো কিছু করার। সেই আশাটা ডাল-পালা মেলবে নাকি অঙ্কুরের বিনষ্ট হয়ে যাবে, সেটা জানা যাবে আজ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায়।

থাইল্যান্ডের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় চোনবুরি স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ড। স্বাগতিক হলেও বাংলাদেশ দলকে সমীহ করছেন থাইল্যান্ডের কোচ নারুয়েফোন হায়েনসন, ‘এই ম্যাচটা খুবই উত্তেজনাপূর্ণ হবে। ভালো একটি ম্যাচ হবে। কারণ, বাংলাদেশ দল ফুটবলে বেশ উন্নতি করেছে গেল কয়েক বছরে এবং এখন তারা ভালো একটি দল। আমাদের মেয়েরাও এই টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুত। এখন তারা বেশ অভিজ্ঞ। থাইল্যান্ড সিনিয়র দলের সঙ্গে তারা অনেক ম্যাচ খেলেছে।’

বাংলাদেশ টানা দ্বিতীয়বারের মতো এই টুর্নামেন্টের চূড়ান্তপর্বে খেলছে। আগের চেয়ে এই দলটি এখন বেশ অভিজ্ঞ। বেশ ফোকাসড। তাইতো মেয়েদের কাছ থেকে সেরাটা প্রত্যাশা করছেন কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন, ‘এই টুর্নামেন্ট খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি টুর্নামেন্ট। কারণ, সবগুলো অংশগ্রহণকারী দেশই এশিয়ার সেরা দেশ। শক্তিশালী দল। আমরা টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনাল রাউন্ডে খেলছি। এই টুর্নামেন্টের জন্য আমাদের মেয়েরা আড়াই বছর প্রস্তুতি নিয়েছে। বাছাইপর্বের প্রথম ও দ্বিতীয় রাউন্ডে ভালো পারফরম্যান্স করেছে। সিনিয়র দলের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে।’

‘এই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে আমরা ৫ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডে এসেছি। তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছি। প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো ফল করেছি। আবহাওয়া ও কন্ডিশনের সঙ্গে ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছি। মেয়েরা বেশ আত্মবিশ^াসী। তারা তাদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত। যাতে প্রথম ম্যাচেই ভালো ফল আসে। আপনারা আমাদের টিমের জন্য সবাই দোয়া করবেন।’

‘এ’ গ্রুপে আজকের ম্যাচের পর বুধবার দ্বিতীয় ম্যাচে জাপানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশের মেয়েরা। আর ২১ সেপ্টেম্বর শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। সেমিফাইনালে যেতে হলে কমপক্ষে দুটি ম্যাচে জিততে হবে।

Leave a Reply