বগুড়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে দুদককে নিয়মিত লিভ টু আপিল করতে বলেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

আজ সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।

আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে কারাগারে থাকা লতিফ সিদ্দিকী আপাতত মুক্তি পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবী।

দুদকের করা এই মামলায় ৪ নভেম্বর লতিফ সিদ্দিকীকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে রুলও দেওয়া হয়েছিল।

লতিফ সিদ্দিকীকে হাইকোর্টের দেওয়া এই জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করে দুদক। আবেদনটি ৭ নভেম্বর চেম্বার বিচারপতির আদালতে ওঠে। সেদিন চেম্বার বিচারপতি আবেদনটি ১১ নভেম্বর (আজ) আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেন। এই সময়ের মধ্যে লতিফ সিদ্দিকী যাতে মুক্তি না পান, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বলা হয়।

আজ আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। লতিফ সিদ্দিকীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।

টাঙ্গাইল-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লতিফ সিদ্দিকী ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। ওই সময় তিনি দুর্নীতি করেছেন অভিযোগ করে ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর বগুড়ার আদমদীঘি থানায় এই মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম।

সেখানে বলা হয়, মন্ত্রী থাকাকালে লতিফ ক্ষমতার অপব্যবহার করে বাংলাদেশ জুট করপোরেশনের অধীনে থাকা বগুড়ার আদমদীঘির রানীনগর ক্রয় কেন্দ্রের ২ দশমিক ৩৮ একর জমি দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই বেগম জাহানারা রশিদ নামে এক নারীর কছে বিক্রির নির্দেশ দেন, তাতে সরকারের ৪০ লাখ ৬৯ হাজার ২১ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়

মামলায় বেগম জাহানারা রশিদকেও আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে গতবছর ১৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক।

গত ২০ জুন লতিফ সিদ্দিকী এ মামলায় বগুড়ার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে বিচারক তা নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে লতিফ সিদ্দিকীর অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে তার স্ত্রী গত ৩০ জুন হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। কয়েক দফা ব্যর্থ হওয়ার পর গেল ৪ নভেম্বর (সোমবার) ছয় মাসের জামিন পেয়েছিলেন সাবেক এই আওয়ামী লীগ নেতা।

Leave a Reply