বিশ্যোকোবি

রবীন্দ্রভারতীতে মেয়েদের পিঠে ‘** চাঁদ উঠেছিল গগনে’ থেকে শুরু চরম বিতর্ক। নেটিজেনদের ক্ষোভ, পুলিশে অভিযোগ দায়ের, ক্ষমা প্রার্থনা এসবের বাইরে গিয়েও যে প্রশ্নটা বারেবারে অনেকের মনেই কড়া নাড়ছে কোথায় এই গানের শ্রষ্ঠা? কোথায় রোদ্দুর রায়?

ইন্টারনেটে অভ্যস্ত আধুনিক বাঙালি রোদ্দুর রায়কে চেনেন না এটা বিরল। কিন্তু যে ব্যক্তিদের চেনা ও জানার মধ্যে আসলে কয়েক যোজন তফাৎ থাকে, রোদ্দুর রায় আসলে তেমনই একজন। কী বলবেন তাঁকে? বাউন্ডুলে? চালচুলোহীন? নাকি ইন্টারনেট দুনিয়ার অন্যতম বিতর্কিত চরিত্র? কে এই রোদ্দুর রায়।

‘মোক্সা গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট’, ‘মোকসা রেডিয়ো’ ইত্যাদির সঙ্গে জড়িত তিনি। এমনকি তাঁর লেখা বইও রয়েছে ‘অ্যান্ড স্টেলা টার্নস আ মম’। তাঁর কবিতাগুলোর নাম শুনলে যে কোনও চিরাচরিৎ সাহিত্যিকের আক্কেল গুড়ুম হওয়ার জোগাড় হয়, ‘ক্যালানের মত ঠ্যাং তুলে’, ‘গান্ডুরা কেন গাঁজা খায়’ এসব নামে কবিতা লিখে বিতর্কের শীর্ষে থাকেন নিজেকে ‘বিশ্যোকোবি’ বলে পরিচয় দেওয়া রোদ্দুর রায়।

তবে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হল যে রোদ্দুর রায় নিয়ে এত হইচই। সেই নামটাও কিন্তু বিতর্কিত মানুষটির আসল নাম নয়। কোনও এক সময়ে কোনও এক ব্যক্তি তাঁর এই নাম রেখেছিলেন বলে এক সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছিলেন আমাদের আজকের রোদ্দুর রায়।

আসলে রোদ্দুর রায়ের পরিচয় ধোঁয়াশায় মোড়া। যেমন কিছুটা অন্য ধারায় লেখা তাঁর কবিতা, গান। তেমনই অন্য এক ধারা বা জগতের মানুষ রোদ্দুর রায় বলেও অনেকে দাবি করেন। তবে সব জনগণ অবশ্য রোদ্দুর রায়ের ফ্যান নয়। বিরাট অংশ রয়েছে যারা রীতিমতো রোদ্দুর রায়ের বিপক্ষে। তাঁরা কেউ বলেন, অভিযোগ দায়ের হওয়া উচিৎ এই লোকটির বিরুদ্ধে। আবার অনেকে আছেন যারা বলেন, যে ইউকেলেলে নামে যন্ত্রটি তিনি বাজান, সেটিও ঠিকমতো বাজাতে পারেননা তিনি।

কিন্তু তাতে বোধহয় খুব একটা যায় আসে না ইউটিউবার, ‘কবি’, ‘গায়ক’ রোদ্দুর রায়ের। অনেকে তো রোদ্দুর রায়ের নামের আগে উপোরোক্ত শব্দগুলির মধ্যে থেকে একটি শব্দও বসতে দিতে রাজি না। এ তর্ক চলতেই থাকবেই। রোদ্দুর রায় আদৌ কবি, গায়ক কিনা তা বলবেন তাঁর পাঠকেরা আর সমালোচকেরা। কিন্তু রোদ্দুর রায় নিজে বলেন, ” যাঁরা আমাকে গাল দিয়েছেন, সমালোচনা করেছেন, তাঁদের সকলকে আমার কুর্নিশ। আমার মনে হয়েছে, এঁরা সকলে রবীন্দ্রনাথকে ভালবাসেন, তাঁদের নিজেদের মত করে ভালবাসেন। আমি আমার মত করে ভালবাসি। “

Leave a Reply