রুপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাস

যিনি বাংলার সৌন্দর্যের বিমুগ্ধ রূপকার। কবিতায় আঁকতেন প্রকৃতির অপরূপ ছবি। যিনি ছিলেন নির্জনতার কবি। নাটোরের বনলতা সেন শব্দ গুলো শুনলে যার কথা মনে পড়ে যায়, তিনি আমাদের রুপসী বাংলার প্রিয় কবি জীবনানন্দ দাস। 

জীবনে সব কিছুই সহজভাবে নিতে পারতেন বলেই তার ছিলো আলাদা এক স্বকীয় জগত। কবির জীবদ্দশায় তার রচিত সাহিত্যকর্ম খুব একটা সমাদৃত হয়নি। তিনিও ছিলেন প্রচার বিমুখ। লিখে লিখে ট্রাংকে জমিয়ে রাখতেন কবিতা প্রবন্ধের পাণ্ডুলিপি। কবির মৃত্যুর পর যখন সেই ট্রাংক উদ্ধার করা হয়েছিলো তখন বেড়িয়ে এসেছিলো জীবনানন্দের কালজয়ী সব সাহিত্যকর্ম। 

একুশ শতকে বাংলা কবিতার আধুনিকায়ন হয়েছিলো জীবনানন্দের হাত ধরে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটেও এই কবির কবিতার ভূমিকা ঐতিহাসিক। ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর রূপসী বাংলা কবিতা তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে ছিলো।

শেষ কয়েকবছর কবি জীবনানন্দ দাস চরম অর্থকষ্টে ভুগে ছিলেন। তাই ধারণা করা হয় অন্যমনস্ক হয়ে রাস্তা পার হতে গিয়ে এক ট্রাম দুর্ঘটনায় ১৯৫৪ সালের আজকের এই দিনে কবি প্রাণ হারান। 

তাকে হারিয়ে বাংলা সাহিত্য যেন হারিয়েছে তার অপার সম্ভাবনা। কবির ৬৬ তম মৃত্যু বার্ষিকীতে প্রথম বার্তা ২৪ পরিবারের পক্ষ থেকে রইলো গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। 

Leave a Reply