রাষ্ট্রীয় পাটকল চালু না হলে হরতালের হুঁশিয়ারি বাম জোটের

বন্ধ ঘোষিত রাষ্ট্রীয় পাটকলগুলো চলতি মাসের মধ্যে চালু না হলে আগামীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও, হরতাল-অবরোধসহ কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারী দিয়েছেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতৃবৃন্দ। দেশব্যাপী জেলায় জেলায় অবস্থান ও সংহতি সমাবেশের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে এই হুশিয়ারী উচ্চারণ করা হয়।

রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল, আধুনিকায়ন করে রাষ্ট্রীয় পাটকল চালু, পাটখাত ধ্বংস ও দুর্নীতি লুটপাট বন্ধ, লোকসানের জন্য দায়ীদের শাস্তি, শ্রমিকদের ৬ সপ্তাহের মজুরি-ঈদুল আযহার বোনাস ও এরিয়াসহ সকল বকেয়া পরিশোধ এবং সরকারি-বেসরকারি সকল কারখানায় জাতীয় নিম্নতম মজুরি ঘোষণার দাবিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাম জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজ। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, সিপিবি’র আব্দুল্লাহ কাফি রতন, কমিউনিস্ট লীগের অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী)’র ফখরুদ্দিন কবির আতিক, গণসংহতি আন্দোলনের বাচ্চু ভূঁইয়া, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের হামিদুল হক ও কমিউনিস্ট লীগের নজরুল ইসলাম।

সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন পাট বস্ত্রকল শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক শহীদুল্লাহ চৌধুরী, ডক্টরস প্লাট ফরম ফর পিপলস হেল্থ-এর অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদ, প্রগতিশীল সাংবাদিক ও গণমাধ্যম কর্মী ফোরামের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ শাহরিয়ার সাগর, কমিউনিস্ট পার্টি নারী সেলের লুনা নূর, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের খালেকুজ্জামান লিপন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আল কাদেরী জয়, নারী মুক্তি কেন্দ্রের নাঈমা খালেদা মনিকা, শ্রমজীবী নারী মৈত্রীর বহ্নি শিখা জামালী, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সুস্মিতা মরিয়ম ও সুস্মিতা রায় সুপ্তি, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের রুখসানা আফরোজ আশা, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের জুলফিকার আলী, শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের আ. ক. ম. জহিরুল ইসলাম, গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক জুলহাস নাইন বাবু, ছাত্র ফেডারেশনের সাদিক রেজা, বহুমুখী শ্রমজীবী ও হকার সমিতির বেলায়েত সিকদার, বিপ্লবী পাদুক শ্রমিক সংহতির ইমরান হোসেন, গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের রাজু আহমেদ, কমির জুট মিলের শ্রমিক শাহিন রহমান, যুব ইউনিয়নের সাজেদুল হক রুবেল প্রমুখ।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাপী পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার ফলে পাট ও পাটজাত দ্রব্যের চাহিদা বাড়বে। এ ছাড়া ইউরোপে একযোগে প্লাস্টিক ব্যাগ নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে। ২০২২ সাল নাগাদ শুধু পাটের ব্যাগের বৈশ্বিক বাজার দাঁড়াবে ২৬০ কোটি ডলারের। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জুট জিও, টেক্সটাইলের চাহিদা ১৫০ শতাংশ বৃদ্ধির আশা করা হচ্ছে। এই অবস্থায় রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধে সিদ্ধান্ত কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পাট শিল্প ও শ্রমিক কৃষকের স্বার্থে পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে দেশের বাম প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।

Leave a Reply