রাজধানীর ফুটপাত ও সড়কে অবৈধ স্থাপনা, নির্মাণসামগ্রী থাকলেই নিলাম হয়ে যাবে

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেছেন, যত ক্ষমতাবানই হন না কেন এই শহরের ফুটপাতে কোনো ধরনের নির্মাণসামগ্রী বা অন্য কোনো সামগ্রী রেখে ব্যবসা করতে পারবেন না।

তিনি বলেন, ঢাকা শহর আমাদের সবার, আমাদের আদরের। এই শহরে আমরা জীবিকা নির্বাহ করি। ঢাকা শহরকে যত্রতত্র শেষ করে ফেলবেন, এটি হতে দেয়া যাবে না।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানে ফুটপাত ও সড়ক থেকে অবৈধ নির্মাণসামগ্রী, স্থাপনা জব্দ ও নিলাম কার্যক্রম পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন তিনি।

পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, ‘আমি গত আশুরার দিন সকালে বিভিন্ন এলাকায় যাই। তখন দেখেছি ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় ইট-বালি, রডসহ বিভিন্ন ধরনের নির্মাণসামগ্রী রাস্তায়-ফুটপাতে রেখে দিয়েছে। তখন আমরা বলেছিলাম, ৭ তারিখ থেকে অর্থাৎ আজ থেকে ১০টি অঞ্চলে একযোগে সারাদিন এ অভিযান চলবে। আপনারা নিজেরা দেখেন বড় বড় অট্টালিকা করছে, অট্টালিকা হবে ভালো কথা, কিন্তু সিটি করপোরেশনের কোনো কিছু তোয়াক্কা না করে, আইনকে কোনো ধরনের সম্মান না জানিয়ে, তারা ফুটপাতে নির্মাণসামগ্রী রেখে দিচ্ছে।’

আতিকুল ইসলাম বলেন, এ জন্য আমাদের ফুটপাত ভেঙে যাচ্ছে। আমরা সবাই বলেছি, তারপরও আইনকে তোয়াক্কা করছে না। আমি আমার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দিয়েছি, আজ যেখানে যে অবস্থায় ফুটপাত ও সড়কে নির্মাণসামগ্রী পাওয়া যাবে, আইন অনুযায়ী এগুলো নিলাম দিয়ে দেয়া হবে। এই প্রেক্ষিতে নিলাম শুরু হয়েছে। আপনারা ব্যবসা করবেন, ব্যবসা করুন। কিন্তু কেন ফুটপাত ও রাস্তার মধ্যে নির্মাণসামগ্রী রাখবেন। এগুলো রাখার ফলে ড্রেন ভরাট হয়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। আমি হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, এ অভিযান প্রতি সপ্তাহে একদিন চলবে।

রাজধানীর ফুটপাত ও সড়কে অবৈধ স্থাপনা, নির্মাণসামগ্রী থাকলেই নিলাম হয়ে যাবে

অবৈধ বিলবোর্ড সম্পর্কে মেয়র বলেন, ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় যত্রতত্র সাইনবোর্ড-বিলবোর্ডে ভরে গেছে। সাইনবোর্ডের জন্য কেউ পারমিশন নিচ্ছেন না। আমি বিনয়ের সাথে আপনাদের অনুরোধ করছি, আপনারা নির্ধারিত ট্যাক্স সিটি করপোরেশনে দিয়ে তারপর সাইনবোর্ড লাগাতে পারেন। যেকোনো ধরনের সাইনবোর্ড-বিলবোর্ডে অনুমতি নিয়ে ট্যাক্স দিয়ে লাগাতে পারবেন। তা না হলে আগামী ১৪ তারিখ থেকে যত ধরনের সাইনবোর্ড আছে, সে সাইনবোর্ডও উচ্ছেদ শুরু হবে। অতিরিক্ত সাইনবোর্ড লাগিয়ে অনেকে ঢাকা শহরের সৌন্দর্য নষ্ট করছেন, এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকুন। আমাদের অভিযান চলবেই চলবে। আমি আবারও বলছি আমাদের সড়ক এবং ফুটপাতে যত অবৈধ নির্মাণসামগ্রী বা অন্য কোনো সামগ্রী থাকবে তা নিলাম হয়ে যাবে।

জানা গেছে, ডিএনসিসি এলাকার সড়ক ও ফুটপাতে অবৈধভাবে রাখা সামগ্রী উচ্ছেদ ও নিলামে ডিএনসিসির ১০টি অঞ্চলে একযোগে মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালিত হয়। মেয়র আতিকুল ইসলাম গুলশান ৮৬, ৮৭, ৬৭ নম্বর রোড এবং বনানী ১৫ নম্বর রোড পরিদর্শন করে ফুটপাত এবং সড়কের ওপর রড, ইট দেখতে পেয়ে ক্ষুব্ধ হন। পরে ডিএনসিসির মোবাইল কোর্ট কর্তৃক ভবন নির্মাণকারীদের জরিমানা করা হয় এবং নির্মাণসামগ্রী তাৎক্ষণিক নিলামে বিক্রি করা হয়।

সড়ক ও ফুটপাত রাখা অবৈধ নির্মাণসামগ্রী ও অন্যান্য সামগ্রী উচ্ছেদে আজ ডিএনসিসির ১০টি অঞ্চলে মোট ৩২টি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এসব নিলামের মাধ্যমে ১৩ লাখ আট হাজার ৫৯০ টাকা এবং জরিমানা বাবদ সাত লাখ ৪৫ হাজার ২০০ টাকা আদায় করা হয়। এছাড়া এসময় এক হাজার ২০০টি অবৈধ স্থাপনা, টঙ দোকান ও শেড উচ্ছেদ করা হয়।

Leave a Reply