যে কারণে হেড কোচ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে ডোমিঙ্গো

0
848
Spread the love

ঈদের ঘরে ফেরা শুরু হয়ে গেছে। রাজধানী ঢাকা, বন্দর নগরী চট্টগ্রাম, বিভাগীয় শহর খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল ও রংপুরসহ কুমিল্লা, যশোর, বগুড়াসহ দেশের প্রায় সর্বত্র কোরবানীর হাটও বসে গেছে। আপনজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে আর প্রিয় জনের সান্নিধ্য পেতে ঘরে ফেরার তাগিদ এখন অনেকের। সেই সাথে গরু-ছাগলের হাটের দিকেও চোখ স্থির।

এরকম অবস্থায়ও হঠাৎ কাল সন্ধ্যার পর থেকে ক্রিকেট ভক্ত ও বাংলাদেশ সমর্থক-অনুরাগিদের মাথায় ঢুকে গেছে হেড কোচের চিন্তা। কে হবেন নতুন বিদেশি প্রধান প্রশিক্ষক? তা জানতে রাজ্যের কৌতুহল। এ কদিন ভেতরে ভেতরে কোচ নিয়োগের কাজ চালিয়ে গেলেও বুধবার সকাল গড়িয়ে দুপুর নামতেই নতুন কোচ নিয়োগে বিসিবি তৎপরতা দৃশ্যমান হয়।

বিসিবি মুখপাত্র জালাল ইউনুস বলে দিয়েছেন, তারা মানে বোর্ড যে তিজনের শর্ট লিস্ট করেছে, তার বাইরে কারো কোচ হয়ে আসার সম্ভাবনা শূন্যের কোঠায়। কাজেই ধরেই নেয়া যায় ঐ সংক্ষিপ্ত তালিকার তিনজনের যেকোনো একজন আগামী দিনে টাইগারদের হেড কোচের দায়িত্ব পালন করবেন।

বোর্ড কর্তাদের সবাই অতি সতর্ক। কেউ মুখ ফসকে একটি নামও বলছেন না। তবে একটু বেশি রাতে একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, এ মুহুর্তে কোচের দৌড়ে এগিয়ে বুধবার ইন্টারভিউ দেয়া ডোমিঙ্গোই। সূত্র জানিয়েছে, বাকি দুজনার কারো লক্ষ্য-পরিকল্পনা আর উপস্থাপনা খুব বেশি সাজানো গোছানো, দুরদর্শী এবং আধুনিক হলে ভিন্ন কথা। তা না হলে বিসিবি হয়ত ডোমিঙ্গোকেই বেছে নিবে।

বুধবার ইন্টারভিউতে এ দক্ষিণ আফ্রিকানের কথাবার্তা, লক্ষ্য-পরিকল্পনা, ট্রেনিং প্রোগাম ও সার্বিক কার্যক্রমের উপস্থাপনায় বোর্ড প্রধান নাজমুল হাসান পাপনসহ প্রায় সব পরিচালকই সন্তুষ্ট।

ডোমিঙ্গো ইন্টারভিউ দিয়ে বেড়িয়ে যাওয়ার পর পরিচালক, মিডিয়া কমিটি প্রধান এবং কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়ার অন্যতম হর্তাকর্তা জালাল ইউনুস অনেক সতর্ক-সাবধানে কথা বলার পরও এক পর্যায়ে কথা প্রসঙ্গে বলে ফেলছেন, ডোমিঙ্গোর ইন্টারভিউ সন্তোষজনক। তাই মুখে এমন কথা, ডোমিঙ্গো সন্তোষজনক একটা প্রেজেন্টেশন দিয়েছেন। উনি ভাল ইন্টারভিউ দিয়েছেন, খুবই পেশাদার কোচ। প্রায় ৫ বছর দক্ষিণ আফ্রিকার ছেলে দলের কোচ ছিলেন। এখন ‘এ’ দলে আছেন। সব দিক দিয়ে অবশ্যই উনি যোগ্য।

তবে যেহেতু আরও দুজন কোচকে খুটিয়ে দেখা হবে। তাই আজ ইন্টারভিউতে সন্তুষ্ট হলেও ডোমিঙ্গোকে চূড়ান্ত করেনি বোর্ড। তাই তো জালাল ইউনুসের মুখে এ কথা, আমরা এখনই তাকে চূড়ান্ত করছি না। হাতে আরও যারা দুজন আছেন। তাদের সাক্ষাৎকার নেবো। তারপর সিদ্ধান্ত হবে।

রাতে অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে, ডোমিঙ্গোর প্রেজেন্টেশনের চেয়েও আরও একটি বিষয় মনে ধরেছে বোর্ড কর্তাদের। তা হলো ডোমিঙ্গো কোনরকম পার্টটাইম কোচিং করানোর প্রস্তাব দেননি। এমনকি দিনক্ষণ বেঁধে দেননি আমি বৎসরে ঠিক এ কদিন কাজ করবো। বরং তিনি ফুলটাইম কোচিং করাতে রাজি হয়েছেন। বছরে দুই মাস থেকে সর্বোচ্চ ৭০ দিনের মত ছুটি কাটানোর কথা বলেছেন। বাকি সময় তিনি বাংলাদেশে থাকবেন এবং কোচিং করাবেন।

প্রসঙ্গত, হাথুরুসিংহেসহ অনেক কোচই জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক সফর সূচি দেখে তার আগে প্রস্ততির সময় শুধু কাজ করার কথা বলেই চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন এবং সেই মত জাতীয় দলের হোম ও বিদেশে সিরিজ, টুর্নামেন্ট তথা আন্তর্জাতিক সফরসূচির আগের সময়টায় শুধু বাংলাদেশে এসে কোচিং করাতেন।

কিন্তু ডোমিঙ্গো তাদের চেয়ে অনেক বেশি সময় কাজ করতে এবং বাংলাদেশে থাকতে চেয়েছেন। তার কোচিং প্রোগ্রামে বছরের একটা বড় সময় কাজ করার প্রস্তাব আছে। তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় দলের কোন আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা না থাকলেও আমি বাংলাদেশে থাকবো বড় সময়।

এটাই বিসিবি কর্তাদের ভাল লেগেছে। তারাও আসলে এমন একজনকে খুঁজছিলেন। যিনি মেধাবী, দক্ষ, অভিজ্ঞ আর সর্বোপরি সময় বেশি দিতে পারবেন। জাতীয় দলের খেলা তথা কার্যক্রম থাকুক আর নাই থাকুক, বছরের বেশিরভাগ সময় তাকে পাওয়া যাবে। যিনি খেলোয়াড়দের ভুল ত্রুটি নিয়ে অন্যসময় কাজ করবেন।

আর তাই ডোমিঙ্গোর প্রতি আগ্রহটা প্রবল হয়েছে বোর্ড কর্তাদের। শেষ পর্যন্ত বিসিবি যদি এই প্রোটিয়াকে হেড কোচ হিসেবে বেছে নেয়, তা হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here