বিদেশি গরু না আসলে লাভের আশা খামারিদের

0
219
Spread the love

ঈদুল আজহার উপলক্ষে পটুয়াখালীর খামারিরা দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করেছেন। গো-খাদ্যসহ অন্যান্য জিনিসের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় গতবারের চেয়ে এবার গরুর দাম বেশি। তবে বিদেশি গরু না আসলে দেশীয় খামারিরা পশুর ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন। যদি শেষ মুহূর্তে বিদেশ থেকে গরু আসে তাহলে ক্ষতির সম্মুখীন হবেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

খামার মালিক আবু বকর সিদ্দিকি বলেন,  ‘আমার খামারে ছোট, বড় মাঝারি সব মিলিয়ে ৭০টি গরু রয়েছে। মাঝারি আকৃতির গরুর দাম ৮০-৯০ হাজার। বড় গরু এক থেকে দেড় লাখ টাকা বিক্রির আশা করা হচ্ছে। আমি দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করেছি। আশা করি এবার গরু বিক্রি করে লাভবান হতে পারবো। তবে এবার কোরবানিতে যদি বিদেশ থেকে গরু আসে তাহলে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে খামারিদের। সরকারের কাছে আমাদের আবেদন যেন বিদেশ থেকে গরু আসতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখে।’

গরু ব্যবসায়ী মোকলেস জানান১৫ বছর ধরে তিনি গবাদি পশুর ব্যবসা করছেন। তার খামারে ভুষিখড়ভাতকুড়াখৈলও ঘাসই গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। গরু মোটাতাজা করতে কোনও ওষুধ ব্যবহার করেন না। ওষুধে গরুর লিভার নষ্ট হয়ে যায়। ওই মাংস খাওয়াও নিরাপদ নয়। এবার গরু লালন-পালনগো-খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক জিনিসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই গরুর দামও একটু বেশি। গতবার যে গরু ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি সেই গরুর দাম এবার ৭০-৮০ হাজার টাকা।

জেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছেএ বছর পটুয়াখালীর ৩ হাজার ১৮ খামারে  ৯ হাজার ৯২২টি ষাঁড়২ হাজার ১২৬টি বলদএক হাজার ৬২২টি গাভি৮০০টি মহিষ৪ হাজার ৯৬৪টি ছাগল ও ৩১টি ভেড়া প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও ১ লাখ ১৮০০টি পশু পারিবারিক পর্যায়ে লালন-পালন করা হচ্ছে।

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আনোয়ার হোসেন জানানকোরবানি উপলক্ষে ১৪২ জন কসাইকে মাংস প্রক্রিয়াজাতের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। গবাদি পশুকে স্টেরয়েড দিয়ে যাতে মোটাতাজা করা না হয় এ বিষয়ে খামারিদের সতর্ক করা হয়েছে। পটুয়াখালীতে চাহিদা অনুযায়ী পশু রয়েছে। গরুর হাট-বাজার ও খামারে তদারকি করতে মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। তবে কোরবানিতে যদি পার্শ্ববর্তী  দেশে থেকে গরু আসে তাহলে খামারির ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here