ফ্লার্টিং

0
78

ফ্লার্ট শব্দটির সাথে আমি আপনি সবাই পরিচিত। বুড়ো থেকে শুরু করে কচিকাচা কেইবা জীবনে ফ্লার্ট করেনি কিংবা ফ্লার্টিং এর সম্মুখীন হয়নি। ফ্লার্ট জিনিসটা আমাদের কাছে কিছুটা পজিটিভ আবার কিছুটা নেগেটিভ ধারণা বহন করে। ফ্লার্ট এর ধারণাটা সম্পূর্ণ আশের পাশের মানুষের মন-মানসিকতা আর সামাজিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে।

যেমন ধরুণ আমেরিকা কিংবা ইউরোপিয়ান যে কোনো রাষ্ট্রের মানুষরা ফ্লার্টিং ব্যাপারটা খুব ইঞ্জয় করে। রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে কোনো সুন্দর মানুষ দেখে পছন্দ হতেই পারে। যাকে বলে ক্রাশ। এই ক্রাশ থেকেই বেশিরভাগ সময় ফ্লার্টিং এর উদ্ভব হয়। পছন্দের সেই মানুষটির সাথে পরিচিত হতে, কিংবা তার সাথে বন্ধুত্ব করতে প্রথমেই করতে হয় তার মন জয়। এই মন জয় করতে গিয়েই সৃষ্টি হয় ফ্লার্টিং এর। খোদ উইকিপিডিয়াতে বলা হয়েছে, ফ্লার্টিং বা প্রণয়চাতুর্য হলো, খেলাচ্ছলে প্রেমের ভান করা, প্রেম প্রেম দুষ্টুমি। যা হল এক ব্যক্তির প্রতি অপর কোন ব্যক্তি কর্তৃক প্রদর্শিত অথবা দুজন ব্যক্তির মাঝে পারস্পারিকভাবে সঙ্ঘটিত একটি মানব আচরণ, যাতে কোন ব্যক্তির প্রতি যৌন ও প্রেমময় আগ্রহ প্রদর্শন করা হয়। যা হতে পারে চোখ দিয়ে ইশারা, মুখ দিয়ে বলা কোনো কথা অথবা আকার ইঙ্গিতে কোনো অর্থ প্রদর্শন করা। ইউরোপিয়ানরা ঠিক এমনটাই করে। যাকে ভালো লাগে তাকে আপন করে নেবার জন্যে ইশারা কিংবা কথা ইচ্ছামত যে কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করে।

ফ্লার্টিং ব্যাপারটা তাদের কাছে নিছক আনন্দ ছাড়া অন্য কিছু নয় কিন্তু। তবে আমাদের দেশে ফ্লার্ট শব্দটা বড্ড ঝামেলার জিনিস। একে তো শব্দটা নিয়ে সবার ধারণা পরিষ্কার নয়, তার ওপর এ শব্দের ঠিক বাংলা হয় না।

তবে তা যাই হোক ফ্লার্টিং ব্যাপারটা নিছক আনন্দের হলেও ফ্লার্টিং কিন্তু মানবজীবনে বিরাট বর ভুমিকা পালন করতে পারে। কথায় বলে, ফ্লার্ট করা একরকমের আর্ট। আপনি যদি সিঙ্গেল হয়ে থাকেন, এবং ফ্লার্টিং যদি খুব বেশি ক্ষতিকর পর্যায়ের না হয় তাহলে সেটাতে কোনো ক্ষতি নেই। বরং টুকটাক ফ্লার্টিং করার কিছু উপকার আছে বটে।

ফ্লার্টিং করা মানেই একে অপরের প্রশংসা করা। কারো কাছ থেকে প্রশংসা পেলে মানুষ আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে এবং নিজের সম্পর্কে ধারণা ভালো হয়। ফলে নিজের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হয়, যা খুবই জরুরি।

বিপরীত লিঙ্গের কারো সাথে হাসি ঠাট্টা, গল্প-স্বল্পের মাধ্যমে ফ্লার্টিং করলে কিছুক্ষণের মধ্যেই মন ভালো হয়ে যায়। মন ভালো করে এমন বিশেষ হরমোনের উৎপাদনের মাধ্যমে ভালো লাগার অনুভূতি সৃষ্টি হয় এবং বেশ ফুরফুরে মেজাজে থাকা যায়।

যারা একাকীত্বে ভুগছেন তাদের একাকীত্ব দূর করবে ফ্লার্টিং। নিজের মনের কথা গুলো বলার একজন মানুষ পাওয়া যায় বলে দুঃখ-আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়া যায়। সারাক্ষণই মনের কথাগুলো বলার এবং মানসিকভাবে সহযোগীতা করার মত একজন মানুষ থাকে। ফলে একা থাকার কষ্ট অনুভূত হয় না।

জেনে নিন ফ্লার্ট করার কয়েকটি হ্যান্ড পিক টিপস-

১) ফ্লার্ট করার সময় নাক উঁচু করলে চলবে না। সানিয়া মির্জা থেকে সোনিয়া গান্ধী-ফ্লার্ট করার সময় ছেলে বা মেয়েটির আলোচনা হোক সব বিষয়ে।

২) সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সঙ্গে ফ্লার্ট করার সময় একটু হেসেই কথা বলুন। ব্যবহার করুন চোখের। মেয়েদের কাছে এ এক মোক্ষম অস্ত্র হতে পারে।

৩) কোনও সুন্দরীর সঙ্গে ফ্লার্ট করার সময় মন খুলে বলুন। প্রশংসা করুন তাঁর ড্রেসিং সেন্সের।

৪) নিজের ভেতর রসবোধ জাগ্রত করুন। রসবোধ যে কোনো মানুষকে আপন করে ফেলতে পারে। জোক্স শোনান। ফানি এক্ট করুন। আপনার রসাল কর্মকাণ্ড দেখিয়ে মন জয় করে নিন প্রিয় মানুষটির।

Leave a Reply