নতুন বছরে বাংলাদেশে কড়া নাড়ছে ফাইভজি। আর এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর কাতারে নাম লেখাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিশ্বের যে গুটিকয় দেশ পঞ্চম প্রজন্মের (ফাইভজি) মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু করছে তার মধ্যে বাংলাদেশও নাম লেখাতে যাচ্ছে।

জানা যায়, রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ১৬ থেকে ১৮ জানুয়ারি ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলা’তে ফাইভজির ডেমোনেস্ট্রেশন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবির ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের অগ্রগতি জানাতে সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলার আয়োজন করছে। মুজিববর্ষ পালনের উদ্যোগ হিসেবে এ মেলার অয়োজন করা হচ্ছে। মেলায় প্রাধান্য পাচ্ছে ফাইভজি।

২০২০ সালে ফাইভজির সব কাঠামো গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ফাইভজির স্পেক্ট্রাম বরাদ্দ দেওয়া হলে ২০২০ সালের মধ্যেই ফাইভজি পরীক্ষামূলক চালু করা হবে। ২০২১ সালে এটি আনুষ্ঠানিক চালু করা। তবে চলতি বছরের ডিসেম্বর কিংবা পরের বছর জানুয়ারিতে চালু করার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় ।

ফাইভজি চালু করেছে এমন দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া। এ ছাড়া সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে এবং সুইডেন ফাইভজি নেটওয়ার্ক গ্রহণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ২০২৩ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০০ কোটি ফাইভজি গ্রাহক তৈরি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফাইভজি নীতিমালা তৈরিতে গঠিত কমিটি আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রস্তুত করে বিটিআরসির কাছে জমা দেবে। এর আগে ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং রবির সহায়তায় দেশে প্রথমবারের মতো ফাইভজি পরীক্ষা ও সেবা প্রদর্শন করে প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। প্রদর্শনীতে ফাইভজির গতি ছিল ৩ দশমিক ৮৯ জিবিপিএস থেকে ৪ দশমিক ০৯ জিবিপিএস পর্যন্ত।

১৬ জানুয়ারি ফাইভজির প্রদর্শনীতে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলার উদ্বোধন করবেন এবং সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল।

মেলায় ১০০টি স্টল, মিনি প্যাভিলিয়ন ও প্যাভিলিয়ন থাকবে। এতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সব সংস্থা—ডাক বিভাগ, বিটিআরসি, বিটিসিএল, টেলিটক, সাবমেরিন কেবল কম্পানি লিমিটেড, বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কম্পানি লিমিটেড, টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস) ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে।

এ ছাড়া আইএসপি প্রতিষ্ঠান, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি পণ্য উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ফোন অপারেটরসহ অনেক প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে।

মেলায় টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে তাদের ফাইভজি টাওয়ারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে হাজির হবে। এতে অপারেটর হিসেবে যোগ দেবে রবি। কয়েকটি স্মার্টফোনে ফাইভজির সেবা পরখ করে দেখা যাবে।

Leave a Reply