ধর্ষণের খবর পড়ে নিজের ধর্ষণের খবর দিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী

0
202
Spread the love

আবারও খুলনা নগরীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী (২৮) ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তবে এবারের অভিযুক্ত নৌ-বাহিনীর এক সদস্য। তিনি বর্তমানে কোস্টগার্ডে কর্মরত। তার বিরুদ্ধে নগরীর সদর থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ওই তরুণী।

মামলার বাদী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর ওই ছাত্রী বর্তমানে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তিনি তার সন্তানের পিতৃত্বের দাবি করেছেন। এর আগে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের এলএলবির এক ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় সম্প্রতি নগরীতে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বরগুনা জেলার পূর্ব কেওড়া বুনিয়ার গোলাম কবীরের ছেলে তানজিল ইসলাম (২৫) বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ পড়ুয়া ওই ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় ওই ছাত্রী বাদী হয়ে চলতি বছরের ১৯ জুন খুলনা সদর থানায় তানজিলসহ তার বাবা-মাকে আসামি করে মামলা করেন।

সম্প্রতি কর কমিশনারের ছেলের ধর্ষণের ঘটনা মিডিয়ায় প্রকাশ হওয়ার পর ওই ছাত্রী গণমাধ্যমের শরণাপন্ন হন। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেছেন, তানজিল নৌ-বাহিনীর সৈনিক এবং বর্তমানে কোস্টগার্ড বিসিজি বেইজ মোংলাতে কর্মরত। ২০১৭ সালে তার সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় তানজিলের। বছর খানেক প্রেম করার পর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তানজিল বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে খুলনার সাতরাস্তা মোড়ের টাইটান আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করে তাকে। সর্বশেষ চলতি বছরের ২২ এপ্রিল একই হোটেলের চতুর্থ তলার ৪০৯ নম্বর কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করার পর তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েন।

বিষয়টি তানজিলকে জানানো হলে সে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে তানজিলের বাবা ও মাকে বিষয়টি জানান তিনি। কিন্তু তানজিলের বাবা-মা তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহারের পাশাপাশি হুমকিও দেন।

ওই ছাত্রী আরও জানান, তানজিল বিবাহিত এবং কন্যা সন্তানের বাবা। বিষয়টি গোপন করেই তার সঙ্গে প্রেমের অভিনয় এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। তিনি এখন ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তার সন্তানের পিতার পরিচয় দরকার। বিষয়টি তানজিলের বাবা-মাকে জানানোর পর তারা খুবই খারাপ ব্যবহার ও হুমকি দিয়েছে। এমনকি টাকার বিনিময়ে বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টাও করেছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের পাশাপাশি সন্তানের পিতৃত্বের দাবি জানান।

এ বিষয়ে খুলনা সদর থানার এসআই শাহনেওয়াজ বলেন, ওই ছাত্রী তিনজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। মামলার ১ নম্বর আসামি বর্তমানে কোস্টগার্ডে কর্মরত। এ ঘটনায় তাকে ক্লোজড করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নৌ-বাহিনী অভ্যন্তরীণ তদন্ত করছে। আসামির বাবাও সরকারি চাকরি করে। সেখানেও অফিসিয়ালভাবে মামলার বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে এখনও কাউকে আটক করা হয়নি।

সদর থানার ওসি (তদন্ত) সুজিৎ মন্ডল জানান, এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নৌ-বাহিনীকে কয়েক দফা চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছেন। তাদের অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here