ধ’র্ষকের সঙ্গে শিশু শিক্ষার্থীকে বিয়ে দিলেন পুলিশের এসআই

0
206
Spread the love

পাবনার পর এবার লালমনিরহাটে ধ’র্ষকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ধ’র্ষণের শিকার ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দেন পুলিশের এক সাব-ইন্সপেক্টর। এ ব্যাপারে ছাত্রীর পরিবার অভিযোগ দিলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।

লালমনিরহাট সদর থানার এসআই মাইনুল ইসলামের ‘পরামর্শে’ ধ’র্ষণে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে উল্টো ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দিয়ে বিয়ে দেন মেয়েটির ভ্যানচালক বাবা। ভুক্তভোগী পরিবারটির বাড়ি উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের একটি গ্রামে।

এদিকে, বিয়ে হলেও মেয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় কাবিননামা হাতে পায়নি তার পরিবার। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ছেলেপক্ষ বিয়ে অস্বীকার করে মেয়েটিকে ঘরে তুলছে না। তারা উল্টো এলাকাছাড়া করার হুমকি দিচ্ছে মেয়ের পরিবারকে। মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পুলিশ অভিযোগটি আমলে নিলে তাদের এমন নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না।

সম্প্রতি পাবনা সদর থানায় ধ’র্ষকের সঙ্গে ধ’র্ষণের শিকার নারীর বিয়ে দেন থানার ওসি। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। গতকাল বুধবার সেই ওসি ওবাইদুল হককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। লালমনিরহাটেও একই রকম ঘটনায় ফের পুলিশের সংশ্নিষ্টতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

লালমনিরহাটে মেয়ের বাবার জানান, প্রতিবেশী অচিমন বিবির বাড়িতে স্থানীয় কয়েক শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াতেন একই ইউনিয়নের উমাপতি হরনারায়ণ গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে শাহিন আলম। সেখানে সপ্তম শ্রেণির ওই মেয়েটিকেও মাসিক ৪০০ টাকা বেতনে পড়তে দেন তার বাবা। কিছুদিন পড়ার পর শাহিন তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। সে রাজি না হলে শিক্ষক তার মোবাইল ফোনে আগে গোপনে তোলা কয়েকটি ছবি দেখিয়ে হুমকি দেন। শিক্ষক তাকে বলেন- যদি তার প্রস্তাবে রাজি না হয়, তবে এসব ছবি খারাপ বানিয়ে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবেন। এই ভয় দেখিয়ে প্রেম ও শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করেন তিনি। পরে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বাচ্চা নষ্ট করতে ওষুধ খাওয়ান শাহিন। ওষুধে কাজ না হলে গত ২৫ জুলাই ওই শিক্ষার্থীকে কৌশলে তুলে নিয়ে শহরের মেরী স্টোপ ক্লিনিকে অবৈধ গর্ভপাত ঘটান।

পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ইউপি চেয়ারম্যানের পরামর্শে মেয়েটির বাবা গত ১১ আগস্ট সদর থানায় একটি অভিযোগ দেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাতেই এসআই মাইনুল ইসলাম বাড়িতে এসে মেয়েটিকে বলেন- বিয়ে করবা নাকি জরিমানা নিবা। একপর্যায়ে এসআই বলেন, ৫০ হাজার টাকা দিলেই ছেলেপক্ষ বিয়েতে রাজি হবে।

মেয়ের মা বলেন, ‘বাহে, গরিব বলি হামার কি মান-সম্মান নাই। হামাকগুলাক এলাকাছাড়া করার হুমকি দেয়।’

লালমনিরহাট থানার ওসি মাহফুজ আলম বলেন, পুলিশ সুপার বিষয়টি দেখার জন্য আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন। মেয়ের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ায় তাদের বিয়ে দিয়েছে এলাকাবাসী- এমন কথা জানিয়েছেন এসআই মাইনুল।

জেলা পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখব। তদন্ত করে দোষী প্রমাণিত হলে এ ঘটনায় জড়িতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here