থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপনে ডিএমপির ১৩ নির্দেশনা

থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপনে ডিএমপির ১৩ নির্দেশনা

প্রথমবার্তা ডেস্কঃ প্রাণঘাতী ভাইরাস করোনা সংক্রমণ এড়াতে আসন্ন ইংরেজি নববর্ষ (থার্টিফার্স্ট নাইট) ঘরে উদযাপনসহ ১৩ দফা নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব বিধি-নিষেধের কথা জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বিভিন্ন দেশে সীমিত আকারে অনুষ্ঠান পালন করা হচ্ছে। ইংরেজি নববর্ষের প্রাক্কালে ৩১ ডিসেম্বর রাতে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায়ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে নির্ধারিত অনুষ্ঠান পালিত হবে।

তবে সরকারের নির্দেশনা অনুসারে উন্মুক্ত স্থানে কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে না।

ডিএমপির মতে, উৎসবের নামে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি নিজস্ব সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। কেউ কেউ আনন্দের আতিশয্যে পটকাবাজি, আতশবাজি, অশোভন আচরণ, বেপরোয়া গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালানোর মাধ্যমে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা ও দুর্ঘটনা ঘটিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটায়।

এসব কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা থাকে।

এ বছর ৩১ ডিসেম্বর রাতে পট্কাবাজি, আতশবাজি, বেপরোয়া গাড়ি, মোটরসাইকেল চালানোসহ যে কোনো ধরনের অশোভন আচরণ এবং বেআইনি কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নির্দেশনাগুলো হলো-

১। ঢাকা মহানগরের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলার স্বার্থে রাস্তার মোড়, ফ্লাইওভার, রাস্তায়, ভবনের ছাদে ও প্রকাশ্যে স্থানে কোনো জমায়েত, সমাবেশ ও উৎসব করা যাবে না।

২। উন্মুক্ত স্থানে নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে কোনো অনুষ্ঠান বা সমবেত হওয়া যাবে না। নাচ, গান ও কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা যাবে না।

৩। কোথাও কোনো ধরনেরর আতশবাজি ও পটকা ফোটানো যাবে না।

৪। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সন্ধ‌্যা ছয়টার পর বহিরাগত কোনো ব্যক্তি বা যানবাহন ঢুকতে পারবে না।

৫। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকায় বসবাসরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের গাড়ি নির্ধারিত সময়ের পর পরিচয় দেওয়া সাপেক্ষে শাহবাগ ক্রসিং দিয়ে ঢুকতে পারবেন। তবে, পরিচয় দেওয়া সাপেক্ষে নীলক্ষেত ক্রসিং দিয়ে হেঁটেও প্রবেশ করতে পারবেন।

৬। গুলশান ও বনানী এলাকায় রাত ৮ টার পর বহিরাগতরা প্রবেশ করতে পারবে না। তবে এই এলাকায় বসবাসরত নাগরিকরাবৃ নির্ধারিত সময়ের পর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ (কাকলী ক্রসিং) এবং মহাখালী আমতলী ক্রসিংয়ে পরিচয় দিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন।

৭। একইভাবে উল্লিখিত সময়ে সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকায় যে সব নাগরিক বসবাস করেন না, এসব এলাকায় তাদের আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। ৮। রাত ৮টার পর হাতিরঝিল এলাকায় কাউকে অবস্থান করতে দেওয়া হবে না।

৯। গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় বসবাসরত নাগরিকদের ৩১ ডিসেম্বর রাত ৮ টার মধ্যে স্ব-স্ব এলাকায় প্রত্যাবর্তনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

১০। ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬ টার পর ঢাকা মহানগরীর কোনো বার খোলা রাখা যাবে না।

১১। রাত ১০ টার পর সব ধরনের ফাস্টফুডের দোকান বন্ধ থাকবে।

১২। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সীমিত আকারে আবাসিক হোটেলগুলোতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠান করতে পারবে। তবে কোনোভাবেই ডিজে পার্টি করতে দেওয়া যাবে না।

১৩। ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬ টা থেকে ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি ভোর ৬ টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ, জনসমাবেশ ও উৎসবস্থলে সব ধরনের লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র বহন না করার জন্য নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে। এসবনির্দেশনা পালনে ব্যর্থদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে ডিএমপি।

Leave a Reply