রাহাদ হাসান মুন্না,তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ  সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্তের কড়ইগড়া গারো আদিবাসী মাঠ হঠাৎ করে দখলের পায়তারা শুরু হয়েছে। এ নিয়ে বাঙালি ও আদিবাসীদের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। একাধিকবার শালিস আহ্বান করার পরও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতার কারণে শালিস না হওয়ায় সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ বাধার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় নীরিহ আদিবাসীরা তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসনের কাছে গত ৭ সেপ্টেম্বর লিখিত আবেদন করেছেন।

লিখিত আবেদন ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায় উপজেলার উত্তরবড়দল ইউনিয়নের কড়ইগড়া বড়গোপটিলা এক সময় আদিবাসীদের বসবাস ছিল। কয়েক বছর ধরে এখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভাগ্যন্বেষনে আসা কিছু বাঙালি পাহাড় দখল করে বসবাস শুরু করে। এরপর থেকেই আদিবাসীদের জীবন ও সম্পদের উপর আঘাত আসছে। জানা গেছে ১৯৪৮ সনে পাহাড়রূপি বড়গোপটিলাটির গাছ-গাছালি পরিষ্কার করে আদিবাসীরা খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করেন মাঠটি। প্রতি বছরই ফুটবল-ক্রিকেটসহ টুর্নামেন্ট আয়োজনসহ জাতীয় দিবস, আদিবাসী দিবস উদযাপন করে আসছেন এই মাঠে।

কয়েক মাস আগে হঠাৎ সম্প্রতি টিলার সরকারি খাস জায়গা দখল করে বসবাসকারি কিছু যুবক জোরপূর্বক মাঠ দখল করতে এসে আদিবাসীদের সঙ্গে বিরোধে জড়ায়। তারা আদিবাসীদের জাতিগোষ্ঠীদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে উস্কানীমূলক কথাবার্তা বলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার চেষ্টা করছে। আদিবাসীদের এই মাঠে টাঙ্গানো আদিবাসীদের পূর্বপুরুষদের স্মৃতিচারণমূলক সাইনবোর্ডটি জোরপূর্বক তুলে নিয়ে এই মাঠে আদিবাসীদের না আসতে নিষেধ দিয়েছে টিলা দখল করে বসবাসকারী যুবকেরা। এ ঘটনায় হতভম্ব আদিবাসীরা স্থানীয় ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান, তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দসহ গণ্যমান্যদের কাছে অবগত করেছেন।

জানা গেছে ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম একাধিকবার শালিসের তারিখ দিয়েও তিনি শালিস না করে কালক্ষেপন করছেন। অভিযোগ রয়েছে ওই টিলায় বাঙালি অধ্যুষিত ভাগ্যন্বেষনে আসা লোকজন তার ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত। যে কারণে তিনি বিষয়টি নিষ্পত্তি করছেন না।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দাখিলকারী মাঠ পরিচালনাকারী সুনীল দাজেল ও সেক্রটোরি সঞ্জীব দলবৎ বলেন, আমাদের পূর্ব-পুরুষরা কয়েক বছর ধরে টিলায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন।

১৯৪৮ সনে আমাদের পূর্বপুরুষরা পাহাড় পরিষ্কার করে যে মাঠ তৈরি করেছিলেন আমরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম সেই মাঠে খেলাধুলাসহ নানা কর্মসূচি পালন করছি। কিন্তু কয়েক মাস হলো কিছু উশৃঙ্খল বাঙালি যুবক জোরপূর্বক সশস্ত্র হয়ে মাঠ দখলের চেষ্টা করছে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার শালিসের আয়োজন করা হলেও রহস্যজনক কারণে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হচ্ছেনা। উশৃঙ্খল যুবকরা আমাদের সাইনবোর্ড তুলে নিয়ে সাম্প্রদায়িক কথাবার্তা বলছে। ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবুল কাশেম একাধিকবার শালিসের তারিখ দিয়েও বিষয়টি নিষ্পত্তি করে না দেওয়ার ঘটনা স্বীকার করে বলেন, আমি উভয় পক্ষকে মাঠে যাওয়া থেকে নিভৃত করেছি। আমার মেয়ের বিয়ের জন্য শালিস যথাসময়ে করতে পারিনি।

তবে বিষয়টি যেহেতু ষ্পর্শকাতর তাই প্রশাসনকে নিয়ে আমি শান্তিপূর্ণ সমাধান করতে চাই। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ বলেন, আমার অফিসে এ বিষয়ে আবেদন করা হয়েছে। তবে আমি এখনো আবেদনটি পাইনি। তবে খোজ নিয়ে জেনেছি একাধিকবার শালিস আহ্বান করার পরও শালিস হয়নি। আমি খোজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেব এবং কোন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা যাতে না ঘটে সেদিকে খেয়াল রেখে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দেব।

তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, এই টিলাটিতে একসময় আদিবাসীরাই থাকতেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিভিন্ন সময়ে বাস্তচ্যুত হয়ে আমাদের কিছু বাঙালিরা এসেও এখন বসবাস করছেন। আমি খোজ নিয়ে জেনেছি শত বছর ধরে আদিবাসীরা এই মাঠ ব্যবহার করে আসছেন। সম্প্রতি কিছু দুষ্কৃতিকারী যুবক জোরপূর্বক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধাতে আদিবাসীদের খেলার মাঠটি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চলছে বলে জানতে পেরেছি। আমি আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে এ বিষয়টি মিমাংসা করে দেওয়ার

Leave a Reply