আমি অর্ণব আর তৃপ্তি কচুক্ষেত থেকে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলাম। রাস্তায় বাসের সংকট। আকাশে মেঘ জমেছে। বৃষ্টি হতে পারে। তাই হয়তো বাসগুলো ভিজে ঠান্ডা লাগার ভয়ে বের হচ্ছে না। পথিমধ্যে গল্প করতে করতে আমি তৃপ্তিকে প্রশ্ন করে বসলাম, দোস্ত তোর বিএফ এত হ্যাডম দেখায় কেন। তৃপ্তি জবাব দিলো, ওর বাবার রকেট আছেতো তাই।
– খাইছেড়ে! নাসায়?
– নাহ সদরঘাটে। ঢাকা টু বরিশালের।

আমি টাসকীত। আমার চেয়ে আরো বেশি টাসকীত অর্ণব। তবে তৃপ্তির কথা শুনে নয়। সে যেন কী দেখেছে। তা দেখে চেঁচিয়ে বললো, দোস্ত দেখ দেখ। আমরা সেদিকে তাকালাম। দেখতে পেলাম টিশার্ট আর হাফপ্যান্ট পরিহিত একটি ছেলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে বেধরক কাঁপাকাপি করছে।

তৃপ্তি- দোস্ত ছেলেটার কী হয়েছে?
অর্ণব- আকাশে বিদ্যুৎ চমকায় দেখোস না? মনে হয় ওর উপর বাঁজ পড়ছে।
তৃপ্তি- আরে নাহ আম্মু বলেছে বাঁজ পড়লে বডি নীল হয়ে যায়। ওর বডিতো লাল হয়ে আছে। মনে হয় শকড খেয়েছে।
আমি- শকড কিভাবে খাবে? আশে পাশেতো কারেন্টের খাম্বা নেই।
অর্ণব- মনে হয় রাস্তার কোথাও কারেন্টের তার পড়ে আছে।
আমি- চল ওকে সাহায্য করি।
তৃপ্তি- আরে নাহ! জানিস না শকড খেলে বডিতে কারেন্ট চলে।
আমি- সেই কারেন্ট দিয়ে ফ্যান লাইট চালানো যাবে তো?
তৃপ্তি- দোস্ত ভেরি লেইম জোক্স!

আমি অপমানিত হয়ে চুপ হয়ে গেলাম। এর মধ্যেই অর্ণব কোথা থেকে যেন একটা ছোট লাঠি জোগাড় করে ফেলেছে। সে সেই লাঠি দেখিয়ে আমাদের বললো, তোরা থাক আমি ছেলেটাকে বাঁচিয়ে আসি। শকড খেয়েছে। এখনই যদি পেটাই তবে হয়তো ছেলেটাকে বাঁচানো যাবে।

অর্ণব গিয়ে সেই ছেলেটাকে বেরহম পেটাতে লাগলো। মাথা টু পা। পুরো বডিতে একের পর এক বাড়ি। ছেলেটা বাড়ি খেয়ে খেয়ে রাস্তায় শুয়ে পড়ে গোঙাতে লাগলো। অর্ণব তবুও থামছে না। তাকে যে করেই হোক ছেলেটাকে কারেন্টের হাত থেকে বাঁচাতে হবে। তার সামনে একটা নিরীহ ছেলে মরে যেতে পারে না।

আমার আর তৃপ্তির মত রাস্তার পথচারীরা দূরে দাঁড়িয়ে থেকে এ দৃশ্য দেখতে থাকলো। অর্ণবের মত আর কেউ ভালোবাসা দেখিয়ে সাহায্য করতে এগিয়ে এলো না।

কিছুক্ষণ পর, ছেলেটার কানের ভেতর থেকে খুবই ছোট আকৃতির দুটো ওয়্যারলেস হেডফোন বেড়িয়ে এলো। অর্ণব তা দেখে ছেলেটাকে উদ্দেশ্য করে বললো, ব্যাটা এই হেডফোনের জন্যেই তোর এই অবস্থা। শকড খাইলি। জীবনের মায়া থাকলে আর কানে হেডফোন দিয়ে রাস্তায় দাঁড়াইস না। ছেলেটা কান্না মিশ্রিত কণ্ঠে জবাব দিলো, ভাইয়া আমি শকড খাই নাই! এবার অর্ণব নিজেই যেন ১০০০ ভোল্টের শকড খেলো। চমকিয়ে প্রশ্ন করলো, তাহলে কাঁপতেছিলি কেন? ছেলেটা আগের কান্না করতে করতে জবাব দিলো, ভাইয়া আমি কাঁপি নাই। আমিতো শুধু র‍্যাপ গানের বিটে তাল মেলাচ্ছিলাম।

Leave a Reply