বার্তা ডেক্সঃ ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সেই শান্তি রাণীর প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন ইউএনও। বিভিন্ন অনলাইন ভার্সন ও দেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ”সরকারি সুবিধা কি শান্তি রানীর ভাগ্যে নেই?” এই শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মানবিক নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ-আল-মামুনের। এদিকে কয়েক দিন ধরে ঠাকুরগাঁওয়ে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হওয়ায় বিচলিত হয়ে পড়েন সেই সহায় সম্বলহীন শান্তি রাণীর কথা ভেবে।

আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রবল ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ-আল-মামুন ছুটে যান সেই অসুস্থ বিধবা শান্তি রানীকে (৫২) দেখতে। এসময় তিনি খাদ্য সামগ্রী ও বস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করেন তাকে এবং আশ্বাস দেন দ্রুত সময়ের মধ্যে শান্তি রানীকে বিধবা কার্ড ও বসতভিটা করিয়ে দেওয়ার।

আবদুল্লাহ-আল-মামুন জানান, নানা রকম অনলাইন পত্রিকায় সংবাদটি দেখার পর আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হই। তবে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে হয়তো সেই অসহায় বৃদ্ধা আরও করুণ অবস্থায় রয়েছে ভেবে আজ সেই বিধবা শান্তি রানীকে দেখতে আসি। তাকে প্রথমিকভাবে শাড়ী, কম্বল, চাল দিয়ে সহযোগিতা করেছি। তিনি আরও বলেন, শান্তি রানীর নিজস্ব কোন জায়গা জমি নেই।

জেলা প্রশাসক ড. কেএম কামরুজ্জামান সেলিম স্যারের নির্দেশনা মোতাবেক শান্তি রানীকে একটি সরকারী খাস জমি দেওয়ার ব্যবস্থা করবো যাতে তিনি থাকতে পারেন এবং কৃষিকাজ করে হলেও জীবিকা নির্বাহ করে চলতে পারেন। উল্লেখ্য, স্বামীহারা শান্তি রানী তিনবেলা আহার এবং ওষুধ কেনার টাকার জন্য স্থানীয় এক চায়ের হোটেলে কাজ করতেন।

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) এর কারণে হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। কিন্তু অসুস্থতার জন্য তিনি আর কাজ করতেও পারছে না। একমাত্র ছেলেটাও তাকে আর দেখেনা। বিয়ের পর অসুস্থ্য বৃদ্ধ মাকে ফেলে বউ নিয়ে ম্বশুরবাড়িতে বসবাস করছে।

বর্তমানে শহরের এনামুল পেট্রোল পাম্পের পশ্চিম পাশে অন্যের বাসায় শান্তি রানী বসবাস করছেন। জানা যায়, শান্তি রানী গত আট বছর আগে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার কারণে তার আত্মীয়স্বজনরা তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। করোনাকালে কাজ বন্ধ থাকায় সরকারি ও স্থানীয়দের কাছে কোন সাহায্য সহযোগীতাও পাননি।

স্থানীয় মেম্বার, চেয়ারম্যানের কাছে সাহায্যের জন্য গেলে তারাও খালি হাতে ফিরিয়ে দেয়। নিরুপায় হয়ে ও এক মুঠো আহারের জন্য বাড়ির পাশে এক হোটেলে কাজের সন্ধানে গেলে হোটেল মালিক বৃদ্ধ ভেবে তাড়িয়ে দেয়। বর্তমানে তিনি অসুস্থ্য হয়ে রোগ যন্ত্রণায় বিছানায় কাতরাচ্ছেন। তবে এর আগে, সংবাদ প্রকাশের পর সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সাংবাদিক আব্দুল লতিফের মেয়ে ও ঠাকুরগাঁও সেন্ট মাদার তেরেসা স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী মুক্তা আক্তার তার জন্মদিন উপলক্ষ্যে সেই অসুস্থ্য বৃদ্ধ শান্তি রানীকে কিছু খাদ্য সামগ্রী ও বস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করেন।

Leave a Reply