জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস পালিত হবে শুক্রবার

25

সরকারিভাবে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস পালন করা হবে আগামীকাল শুক্রবার (৯ আগস্ট)। দিবসটি উপলক্ষে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। বর্তমানে দৈনিক ২৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলিত হলেও চাহিদা রয়েছে প্রায় ৩৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটের। এ চাহিদা পুরণে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে এবং এলপিজির ব্যবহারের প্রসার ঘটানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, এলপি গ্যাসের চাহিদা সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রাথমিক অনুমোদনপ্রাপ্ত কোম্পানি সমূহের বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৩০ লাখ মেট্রিক টন।

তিনি বলেন, দ্রুত সময়ে তেল চট্টগ্রাম হতে ঢাকা পরিবহনের লক্ষ্যে ঢাকা- চট্টগ্রাম জ্বালানি তেল পাইপ লাইন ও কাঞ্চন ব্রিজ হতে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত জেট ফুয়েল সরবরাহ পাইপ লাইনের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম)- এর মাধ্যমে দ্রুততার সঙ্গে জাহাজ হতে তেল খালাস করে ইস্টার্ণ রিফাইনারিতে নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তেল পরিশোধনের জন্য ইআরএল ইউনিট- ২ স্থাপন করা হচ্ছে। বর্তমানে ইস্টার্ণ রিফাইনারির মাধ্যমে বছরে ১৫ লাখ টন তেল পরিশোধিত হচ্ছে এবং দ্বিতীয় ইউনিট শুরু হলে আবারও ৩০ লাখ টন অর্থাৎ মোট ৪৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন সম্ভব হবে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য পাইপলাইন নির্মাণ করা হচ্ছে।

নসরুল হামিদ আরও বলেন, শেখ হাসিনার সরকার যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার ভিশন দিয়েছে তা ২০৪১ সালের মধ্যেই বাস্তবায়িত হবে। উন্নত বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা কী রূপ হবে তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। যার যার উপর অপত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে তা পালন করলে উন্নত বাংলাদেশ গড়া শুধু সময়ের ব্যাপার।

দিবসের কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, জ্বালানি সেক্টরের সাম্প্রতিক অর্জন, অগ্রগতি ও অন্য বিষয়ে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। যেখানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবের বাণী প্রকাশ করা হবে। বিপিসি ও পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানদের নিবন্ধ প্রকাশ করা হবে। জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মোবাইল ফোনে এসএমএস দেয়া হবে।

এছাড়া জ্বালানি সেক্টরের উন্নয়নে গৃহীত কার্যক্রম ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা বিষয়ে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় পেট্রোবাংলার ড. হাবিবুর রহমান অডিটোরিয়ামে সেমিনার ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন দফতর ও কোম্পানিগুলোকে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে জেলা ও বিভাগ পর্যায়ে দিবস উদযাপন করা হবে।

জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস-২০১৯ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে গৃহীত কার্যক্রম নিয়ে পেট্রোবাংলা কর্তৃক একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হবে।

নির্ধারিত কয়েকটি সড়ক দ্বীপ (সার্ক ফোয়ারা, কদম ফোয়ারা) সজ্জিত করা হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট বঙ্গবন্ধু বহুজাতিক কোম্পানি শেল ওয়েলের কাছ থেকে তিতাস, রশিদপুর, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ এবং কৈলাসটিলা গ্যাস ক্ষেত্র কিনে নেন। ওই সময়ে ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন পাউন্ডে গ্যাস ক্ষেত্রগুলো কিনে রাষ্ট্রীয় মালিকানা প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। এ উপলক্ষে প্রতিবছর এ দিনে সরকার জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস পালন করে আসছে।