ছাত্র ফেডারেশনের বিক্ষোভ

0
173
prothombarta24
Spread the love

ছাত্র ফেডারেশনের বিক্ষোভ ‘দিলিস্ন-মেঘালয়সহ ভারতজুড়ে সাম্প্রদায়িক হামলা বন্ধ করো’, ‘ফেলানীসহ সীমান্ত হত্যার বিচার কর’ ইত্যাদি স্স্নোগান ও ব্যানারসহ মিছিল নিয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ভারতীয় দূতাবাসের সামনে অবস্থান নিতে গেলে পুলিশ বাধা দিয়েছে। কিছুদূর যাওয়ার পরই পুলিশি বাধার মুখে পড়ে মিছিলটি। পরে সড়কেই বিক্ষোভ মিছিল ও বক্তৃতার মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ করেছেন নেতারা। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় নতুনবাজার বাঁশতলা বাসস্ট্যান্ডে জমায়েত হয়ে দূতাবাস অভিমুখে রওনা হন তারা।

পুলিশি বাধার পর সিনিয়র নেতারা পুলিশ সদস্যদের বোঝানোর চেষ্টা করেন, কেন এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া উচিত। কিন্তু পুলিশ সদস্যরা তাদের অবস্থানে অনড় থাকেন। তাদের ভাষ্য, নিরাপত্তার খাতিরে আর সামনে এগিয়ে যেতে দেওয়া হবে না এবং ভারতীয় দূতাবাসের সামনে অবস্থান করা যাবে না।

এ সময় ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা পুলিশ সদস্যদের বলেন, ‘বিশ্বের কোনো দেশে হত্যাকান্ড, নিপীড়ন, মানবতাবিরোধী কর্মকান্ড হয় তাহলে সে দেশের দূতাবাসের সামনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ প্রতিবাদ জানিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। আমরা অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাতে চাই। আমাদের অবস্থান করার সুযোগ দিন।’ এভাবে আধা ঘণ্টার বেশি সময় পুলিশ ও নেতাকর্মীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। শেষে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে না পেরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘অত্যন্ত লজ্জাজনক ও মর্মান্তিক ঘটনা, আমাদের দেশের পুলিশ কার পক্ষে দাঁড়িয়েছে? আমরা হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ করতে এসেছি। আমাদের সে প্রতিবাদ করতে দেওয়া হচ্ছে না। জনগণের টাকায় যারা

চলছে, তারা জনগণের বিপক্ষে দাঁড়াচ্ছে। তারা নিপীড়কদের পক্ষ নিচ্ছে, দুর্নীতিবাজদের পক্ষ নিচ্ছে। মানবিকতার পক্ষে, দেশের পক্ষে যারা কথা বলছে তাদের বাধা দেওয়া হয়। সংবিধানে রয়েছে কোথাও নিপীড়ন ঘটলে বাংলাদেশ নিপীড়িতের পক্ষে কথা বলবে। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে নিপীড়নের বিরুদ্ধে আমি কথা বলা আমার সাংবিধানিক অধিকার। এই সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করার জন্য পুলিশের সহযোগিতা ও নিরাপত্তা দেওয়ার কথা। কিন্তু তারা তা করছে না।’

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা সাম্প্রদায়িকতার ফাঁদে পা দেবেন না। সতর্ক থাকবেন। যে দেশের সরকারপ্রধান আমার দেশের মানুষকে বর্ডারে প্রতিনিয়ত রক্তাক্ত করে তাকে রাষ্ট্রীয় সফরে অনুমোদন করছি না। আমরা তাকে প্রত্যাখ্যান করছি।’

পরবর্তী সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয় আগামী ১১ মার্চ বেলা ১১টায় অপরাজেয় বাংলা থেকে মিছিল নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে সংগঠনটি। এতে দাবি জানানো হবে-সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার বিচার করতে হবে; দিলিস্ন-মেঘালয়সহ ভারতজুড়ে সাম্প্রদায়িক হত্যাকান্ড বন্ধ করতে হবে; ৫৪ নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে হবে; বাণিজ্যঘাটতি কমাতে হবে; দেশের তরুণদের বেকার রেখে ভারতীয় কর্মী নিয়োগ চলবে না; উপকূলে রাডার স্থাপনসহ সব অসম চুক্তি বাতিল করতে হবে; ভারতে মুসলিমবিদ্বেষী সাম্প্রদায়িক এআরসি ও সিএএ বাতিল করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here