prothombarta24

লেখা- পাভেল হোসাইন ইমরান: আমি এদেশের একজন সুনাম ধন্য টিভি রিপোর্টার। সেদিন একটি লোমহর্ষক ঘটনার, যাবতীয় খুঁটিনাটির রিপোর্ট করতে আমি আর আমার টিম পৌছে গিয়েছিলাম একটি গার্লস কলেজে।

এখানে যতদূর চোখ যায়, মেয়ে আর মেয়ে। আই মিন কলেজ স্টুডেন্টস। কলেজের একটি ক্লাস রুমের ছাদ হঠাৎ করে ধসে পড়েছে এবং এর দরূণ এক শিক্ষক ২ জন শিক্ষার্থী সহ আটকা পড়ে গিয়েছিলেন সে রুমে।

ভেবে ছিলাম এক তুড়িতেই সব হয়ে যাবে। কিন্তু না তা হলো না। উদ্ধার অভিযান চললো টানা ঘন্টা চারেক! এতক্ষন আমি এক চুলও নড়তে পারিনি। অভিযান চলার মাঝামাঝি সময়ে আমি তলপেটে চাপ অনুভব করলাম। বুঝলাম ছোট বিসর্জনের ডাক এসেছে। কিন্তু এখন যাওয়া সম্ভব না। আমাকেতো বিরতিহীন ভাবে ক্যামেরার সামনে যাবতীয় ঘটনার পাই টু পাই বিবরণ দিতে হচ্ছে।

পেটের চাপকে মাথায় রেখে আমি সব আটকে দাঁড়িয়ে রইলাম। অপেক্ষা করতে থাকলাম। অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হচ্ছে না। মনে হচ্ছিলো এই বুঝি তীরে এসে তরী ডুবলো। কিন্তু না, উপর ওয়ালার কুদরতে এ যাত্রায় বেঁচে গেলাম। তীরে এসে তরী ডোবার আগেই উদ্ধার অভিযান শেষ হলো। আমি সব ফেলে ফুলে দিলাম দৌড়।

দৌড়িয়ে কিছুদূর এসে একটা টয়লেট খুঁজে পেলাম। কিন্তু এখানে বড় করে লেখা- লেডিস টয়লেট। এই জগতের বড্ড নিষ্ঠুর একটা নিয়ম আছে- ” হও যদি তুমি পুরুষ গরণ, তবে তোমার লেডিস টয়লেটে ঢোকা বারণ।” এই কঠিন সত্যটা আমার মেনে নিতে হলো। কিন্তু মেনে নিয়ে কী করবো! আমারতো আর তর সইছে না। দ্রুত বিসর্জন প্রক্রিয়াটা শেষ করতে হবে। নাহয় ঘটে যেতে পারে কোনো কেলেঙ্কারি মূলক ঘটনা।

টয়লেটটা থেকে বেড়িয়ে এলো এক কিশোরী। আমি আর পারলাম না। প্রয়োজনের তাগিদে আমি তার রাস্তা আটকে দাঁড়ালাম।

– এই অভদ্র এভাবে রাস্তা আটকিয়েছেন কেনো? – স্যরি আপু। আমি আসলে একটা প্রয়োজনে আপনাকে থামিয়েছি। – ভাই আপনার মতিগতি ভালো ঠেকছে না। আমি কিন্তু ওমন মেয়ে না। চাইলেই রেপ করতে পারবেন না। – ছিঃ ছিঃ আপু না। কী বলেন এসব! আমার আসলে অনেক চেপেছে। আমি আর সহ্য করতে পারছি না। আমি কী আপনাদের লেডিস টয়লেটটা একটু ব্যবহার করতে পারি? মেয়েটা কয়েক সেকেন্ড ভেবে জবাব দিলো, ভাই টয়লেটতো আমার বাবার না। সরকারের টয়লেট। আপনি চাইলে যান।

আমি ঘাড় ঘুরিয়ে দিলাম দৌড়। টয়লেটে ঢুকে পজিশন নিয়েছি। এখনই বিসর্জন হবে। কিন্তু না হলো না। শুনতে পেলাম সেই মেয়েটা চেচিয়ে তার বান্ধবীদের ডাকছে- “এই ময়না, এই সারিকা, এই ম্যান্ডেলিনা। তোরা সবাই কই? জলদি আয় এদিকে। একটা রেপিস্ট আমাদের ওয়াশরুমে ঢুকে বসে আছে। তোরা জলদি আয়। শালাকে সাইজ করতে হবে।”

আমি এই ঘটনার ক-খ কিছুই বুঝলাম না। এও বুঝলাম না মেয়েটি কেনো এমনটা করলো? কিন্তু আমি সব শুনে মারাত্মক ভয় পেয়ে গেলাম। কীসের কী করবো! কোনো রকম প্যান্টটা টেনে উঠিয়ে দিলাম দৌড়! কেটে পড়লাম নগদে!

Leave a Reply