কমেডিয়ান
টেলি সামাদ (বামে), আনিস ও দিলদার
কমেডিয়ান
টেলি সামাদ (বামে), আনিস ও দিলদার

সিনেমার গল্প থেকে হারিয়ে যাচ্ছে কৌতুক। এখন আর সিনেমার গল্পে থাকছে না কৌতুক অভিনেতাদের হাসির কোনো সংলাপ। দিনদিন হারিয়ে যাচ্ছে কৌতুকের শিল্পীরাও। অথচ এক সময় কৌতুক অভিনেতারা দাপটের সঙ্গে সিনেমায় অভিনয় করতেন।

সেসব দাপুটে কৌতুক অভিনেতাদের মধ্যে ছিলেন- রবিউল, সাইফুদ্দিন, হাসমত, এটিএম শামসুজ্জমান, পরান বাবু, মতি, বেবী জামান, ব্ল্যাক আনোয়ার, খান জয়নুল, আনিস, টেলি সামাদ, আফজাল শরীফ, ববি, জ্যাকি আলমগীরের মতো কৌতুক অভিনেতারা।

সিনেমার গল্পে কৌতুক প্রসঙ্গে অভিনেতা ফারুক বলেছেন, “আগে গল্পের প্রয়োজনে সব ধরনের চরিত্রের গুরুত্ব ছিলো সিনেমায়। এখন গল্প-নির্ভর সিনেমা হচ্ছে না। হাসি-কান্না-দুঃখ মিলেই একটি সিনেমা নির্মাণ করা হয়। যেমন ‘নয়নমণি’ সিনেমায় গ্রামের এক যুবকের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন টেলি সামাদ। ‘সুজন সখী’-তে অভিনয় করেছিলেন দোকানের কর্মচারীর চরিত্রে। এখন নায়কদের ওপর দিয়ে সব চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”

চিত্রনায়িকা শাবনূর বলেছেন, “পরিপূর্ণ একটি সুন্দর গল্পের সিনেমায় সবকিছুই থাকে। সেখানে নায়ক-নায়িকা, বাবা-মা, ভিলেন চরিত্রের পাশাপাশি একটি কমেডি চরিত্রও থাকে। সিনেমায় গান যেমন দর্শক পছন্দ করেন, তেমনই হাস্যরসও চান দর্শকরা। আগে সিনেমায় শিক্ষণীয় বিষয় থাকতো। এখনকার সিনেমায় এসবের কিছুই নেই।”

দিলদার

নন্দিত কৌতুক অভিনেতাদের মধ্যে দিলদার অন্যতম। ১৯৪৫ সালের ১৩ জানুয়ারি চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি। তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে, ‘বেদের মেয়ে জোসনা’, ‘বিক্ষোভ’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘কন্যাদান’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘শুধু তুমি’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘অজান্তে’, ‘প্রিয়জন’ এবং ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’।

দিলদারকে নায়ক করে ‘আব্দুল্লাহ’ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছিলো। সেরা কৌতুক অভিনেতা হিসেবে ২০০৩ সালে ‘তুমি শুধু আমার’ চলচ্চিত্রে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার লাভ করেছিলেন দিলদার।

২০০৩ সালের ১৩ জুলাই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

অভিনেতা আলী রাজ বলেছেন, “দর্শকরা দিলদার ভাইকে নিয়ে আফসোস করেন। তার মতো কেউ আর আসেননি। এখন তো হাস্যরসের নামে ভাঁড়ামি হয়। আগে গল্প-নির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হতো। রাখাল, বাড়ির চাকর, গ্রামের বন্ধু, দোকানদার- এসব চরিত্র সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হতো।”

Leave a Reply