খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব আজ

0
35
Spread the love

খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন আজ। আজ থেকে প্রায় দুই হাজার বছর আগে এই শুভ দিনেই ধরণীকে আলোকিত করে জন্মগ্রহণ করেন খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিস্ট। বেথেলহেমের এক গোয়ালঘরে কুমারিমাতা মেরির কোলে জন্ম হয়েছিল যিশুর। দিনটি খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের জন্য সবচেয়ে আনন্দের। খ্রিস্ট ধর্মালম্বীদের বিশ্বাস, সৃষ্টিকর্তার মহিমা প্রচার এবং মানবজাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে প্রভু যিশুর এ ধরায় আগমন ঘটে।

যিশুর জন্মদিনটিকে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা তাই ধর্মীয় নানা আচার ও উৎসবের মধ্য দিয়ে উদযাপন করে থাকেন। এটি তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। অন্য দেশের মতো বাংলাদেশের খ্রিস্ট ধর্মানুসারীরাও যথাযথ ধর্মীয় আচার, আনন্দ-উৎসব ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করছেন। বড় দিন উপলক্ষে বাড়িঘর নানা রঙের আলোয় সাজিয়েছেন তারা। রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁও, শেরাটন, র‌্যাডিসন, ফোরপয়েন্ট বাই শেরাটন, ওয়েস্টিনেও চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা করা হয়েছে।

খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস- ঈশ্বরের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য একজন নারীর প্রয়োজন ছিল। সেই নারীই কুমারী মেরি। যাকে মা মেরি নামে ডাকা হয়। ‘ঈশ্বরের আগ্রহে ও অলৌকিক ক্ষমতায়’ মা মেরি কুমারী হওয়া সত্ত্বেও গর্ভবতী হন। ঈশ্বরের দূতের কথামতো শিশুটির নাম রাখা হয় যিশাস, বাংলায় বলা হয় ‘যিশু’।

শিশুটি কোনো সাধারণ শিশু ছিল না। ঈশ্বর যাকে পাঠানোর কথা বলেছিলেন মানবজাতির মুক্তির জন্য। যিশু নামের সেই শিশুটি বড় হয়ে পাপের শৃঙ্খলে আবদ্ধ মানুষকে মুক্তির বাণী শোনান।

দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন। এ ছাড়াও বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৃথক বাণী দিয়ে বড় দিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, যীশু খ্রিস্ট ছিলেন সত্যান্বেষী, মানবজাতির মুক্তির দূত এবং আলোর দিশারি। স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পৃথিবীকে শান্তির আবাসভূমিতে পরিণত করতে তিনি বহু ত্যাগের বিনিময়ে সৃষ্টিকর্তার মহিমা ও খ্রিস্টধর্মের সুমহান বাণী প্রচার করেন। তিনি পথভ্রষ্ট মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে আহ্বান জানান। তিনি মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, সেবা, ক্ষমা, মমত্ববোধ, সহানুভূতি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠাসহ শান্তিপূর্ণ অবস্থানের শিক্ষা দেন।

সুখী-সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, পৃথিবীতে ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে শোষণমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা প্রবর্তনই ছিল যীশু খ্রিস্টের অন্যতম ব্রত। বিপন্ন ও অনাহারক্লিষ্ট মানুষের জন্য মহামতি যীশু নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তার জীবনাচরণ ও দৃঢ় চারিত্রিক গুণাবলীর জন্য মানব ইতিহাসে তিনি অমর হয়ে আছেন।

‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ -এই মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে সবাইকে একসঙ্গে উৎসব পালনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

বড়দিন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বঙ্গভবনে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের আর্চবিশপ, বিভিন্ন দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, ধর্মীয় নেতা ও পেশাজীবীরা অংশ নেবেন। অনুষ্ঠানে শিল্পীরা বড়দিনের গান পরিবেশন করবেন। পরে রাষ্ট্রপতি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যদের সাথে নিয়ে বড়দিনের কেক কাটবেন।

বড় দিন উপলক্ষে আজ বুধবার সরকারি ছুটি। রাজধানীসহ দেশের গির্জাগুলো সাজানো হয়েছে জমকালোভাবে। রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনসহ পাঁচতারা হোটেলগুলোতেও সান্তা ক্লজ, ক্রিসমাস ট্রি এবং আলোকসজ্জায় বড় দিনের বিশেষ আয়োজন রাখা হয়েছে। গত রাতে গির্জায় ছিল বিশেষ প্রার্থনা। আজ সকাল থেকেও রয়েছে বড় দিনের প্রার্থনা। দিনটি উপলক্ষে খ্রিস্টান পরিবারে তৈরি হয়েছে নানা ধরনের কেক ও পিঠা, রয়েছে বিশেষ খাবারের আয়োজন। দেশের অনেক অঞ্চলে কীর্তনের পাশাপাশি রয়েছে ধর্মীয় গানের আসর।

এদিকে, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং অন্যান্য বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও স্টেশন দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে।

ডিএমপির উপকমিশনার (ডিসি-মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান, বড়দিনে প্রত্যেকটি চার্চের নিরাপত্তায় ইউনিফর্মে ও সাদা পোশাকে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। দর্শনার্থীদের আর্চওয়ে দিয়ে চার্চে ঢুকতে হবে। এ ছাড়া মেটাল ডিটেক্টর দিয়েও সবার শরীর তল্লাশি করা হবে। হাতব্যাগ, ট্রলিব্যাগ, বড় ভ্যানিটিব্যাগ, পোঁটলা, দাহ্যপদার্থ, ছুরি, অস্ত্র, কাঁচি, ক্ষতিকারক তরল, ব্লেড, দেশলাই, গ্যাসলাইট সঙ্গে নিয়ে চার্চে প্রবেশ করা যাবে না।

চার্চ কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে প্রতিটি চার্চে পর্যাপ্তসংখ্যক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে সার্বক্ষণিক নজরদারি করবে। নারী স্বেচ্ছাসেবকরা নারী দর্শনার্থীদের তল্লাশি করবেন। চার্চ ও আশপাশের এলাকায় সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা বস্তু দেখা গেলে তাৎক্ষণিক পুলিশকে অথবা জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯ এ কল করার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।

Leave a Reply