কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী জানে আলম আর নেই

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী জানে আলম আর নেই
Spread the love

বিনোদন ডেস্কঃ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রজন্মের সংগীতশিল্পীদের মধ্যে অন্যতম জানে আলম আর নেই। মঙ্গলবার (২ মার্চ) দিবাগত রাত পৌনে ১০টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান (ইন্নালিল্লাহি….রাজিউন)।

খবরটি নিশ্চিত করেছেন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিডি চয়েসের কর্ণধার জহিরুল ইসলাম সোহেল।

তিনি জানান, এক মাস আগে জানে আলম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। এরপর করোনা নেগেটিভ হলেও নিউমোনিয়াসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হন। এর জন্য গেল এক মাস বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

সোহেল বলেন, ‘অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার জানে আলম ভাইকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। আলম ভাই আমাদের একা ফেলে চলে গেলেন। সারাক্ষণ হাসিখুশি মানুষটা এভাবে হুট করে চলে যাবেন, ভাবতেও পারছি না।’

এদিকে সংগীত প্রযোজকদের সংগঠন এমআইবি’র মহাসচিব এসকে সাহেদ আলী পাপ্পু জানান, বুধবার (৩ মার্চ) মগবাজার জানে আলমের বাসভবন এলাকায় জানাজা শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে জন্মস্থান মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে চিরশায়িত হবেন এই নন্দিত শিল্পী।

পাপ্পু বলেন, ‘করোনা শুরু হওয়ার কিছুদিন আগে ভাবী (জানে আলমের স্ত্রী) মারা গেলেন। এখন ভাই নিজেই করোনার আঘাতে চলে গেলেন। তাদের দুটো ছেলে অল্প সময়ের মধ্যে এতিম হয়ে গেল। সাংগঠনিকভাবে আলম ভাই ও তার পরিবারের পাশে আমরা সবসময় ছিলাম, এখনও আছি। আলম ভাইয়ের আত্মার শান্তি কামনা করছি।’

জানে আলম শুধু কণ্ঠশিল্পীই নন, তিনি একজন সুরকার, গীতিকার, প্রযোজকও ছিলেন। তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নাম দোয়েল প্রোডাক্টস।

পপ ও ফোকের মিশ্রণে তৈরি গান করে তিনি তুমুল জনপ্রিয়তা পান ৭০’র দশকে। ঢাকা রেকর্ডস থেকে প্রকাশিত প্রথম অ্যালবাম ‘বনমালী’ দিয়ে তৈরি হয় ভালো পরিচিতি। তার গাওয়া বিখ্যাত গানের মধ্যে রয়েছে ‘একটি গন্ধমের লাগিয়া’, ‘স্কুল খুইলাছেরে মাওলা’, ‘কালি ছাড়া কলমের মূল্য যে নাই’, ‘তুমি পিরিতি শিখাইয়া’, ‘দয়াল বাবা কেবলা কাবা’ প্রভৃতি।

জানে আলমের গাওয়া গানের সংখ্যা ৪ হাজারের মতো। এছাড়া তার লেখা, সুরে রয়েছে প্রায় তিন হাজার গান।

সত্তরের দশকে স্বাধীন বাংলাদেশে পপ গানের ৪ স্থপতি হিসেবে সমধিক পরিচিত- ফিরোজ সাঁই, আজম খান, ফেরদৌস ওয়াহিদ ও জানে আলম। যার মধ্যে এখন শুধু বেঁচে আছেন ফেরদৌস ওয়াহিদ।

Leave a Reply