জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ১৯৫৭ সালে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কেরমান শহরের উপকণ্ঠে জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৭৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসলামি বিপ্লবের বিজয়ের পর আইআরজিসি’তে যোগদান করেন।

১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ইরানের ওপর ইরাকের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধে জেনারেল সোলাইমানি কেরমানের ৪১ ‘সারুল্লাহ’ ডিভিশনের নেতৃত্ব দিয়ে প্রথম আলোচনায় আসেন।

ওই যুদ্ধের পর মাদক চোরাকারবারী ও সন্ত্রাসীদের হত্যা করার মাধ্যমে ইরানের পূর্ব সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটান তিনি।

ইসলামি বিপ্লবী গার্ড-আইআরজিসি’র একজন সাধারণ কমান্ডার থেকে দেশটির সবচেয়ে প্রভাবশালী ও দুর্ধর্ষ সেনা কর্মকর্তা হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

১৯৯৭ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনী তাকে আইআরজিসি’র কুদস বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দেন।

ইরান বিপ্লবের পর সোলাইমানিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি ‘অর্ডার অব জুলফিকার’ পদকে ভূষিত হয়েছেন।

মূলত কাসেম সোলেইমানির কর্মক্ষেত্র ছিলো ইরানের বাইরে।

অপ্রচলিত যুদ্ধ ও গুপ্ত হামলার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে দিন দিন অপ্রতিরোধ্য শক্তি হয়ে উঠেছিল তার প্রতিষ্ঠিত কুদস বাহিনী।

অঞ্চলটিতে মার্কিন মিত্র শক্তি সৌদি আরব, আরব আমিরাত, ইসরায়েলের জন্য বড় ধরনের আতঙ্ক ছিলেন ৬২ বয়সী এই জেনারেল।

সোলেইমানির কুদস বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত আছে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস ও ইসলামিক জিহাদ, পাকিস্তানে ফাতেমিয়ুন এবং আফগানিস্তানে জাইনাবিয়ুন, ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীসহ মধ্যপ্রাচ্যের মিলিশিয়া বাহিনীগুলো।

ইরানের পূর্ব সীমান্তে উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠী তালেবান হুমকি সৃষ্টি করলে তার অবসান ঘটাতে সক্ষম হন কাসেম সোলেইমানি।

ইরাক ও সিরিয়ায় উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএস ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করলে জেনারেল সোলাইমানি কুদস বাহিনী এই জঙ্গি গোষ্ঠীকে দমনের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

হরমুজ প্রণালিতে একাধিক তেল ট্যাংকার হামলায় যুদ্ধ পরিস্থিতি, সৌদি আরবে তেলক্ষেত্রে হামলা চালিয়ে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি, গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলের উপর নিয়মিত হামলা, সব ঘটনার পেছনে মূল কলকাঠি নাড়তেন সোলাইমানি ও তার কুদস বাহিনী।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরাকে বিক্ষোভ দমন ও গুপ্তহত্যার পেছনেও কুদস নিয়ন্ত্রিত মিলিশিয়া বাহিনীকেই দায়ী করা হয়ে থাকে।

মূলত, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই এই দুই দেশের সবচেয়ে বড় টার্গেটে পরিণত হন সোলাইমানি।

গুপ্তঘাতকের মাধ্যমে বেশ কয়েকবার তাকে হত্যাচেষ্টা ব্যর্থ হয় দেশগুলো।

শেষ পর্যন্ত মার্কিনিদের হামলায় প্রাণ গেল দুনিয়া কাঁপানো এই জেনারেলের।

Leave a Reply