করোনা নিয়ন্ত্রণে যে ৪ শর্ত মানতে বললেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক

করোনা নিয়ন্ত্রণে যে ৪ শর্ত মানতে বললেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক
Spread the love

প্রথমবার্তা২৪.কম ডেস্কঃ দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার প্রতিদিন বাড়ছে। ইতোমধ্যে শনাক্তের হার বেড়ে প্রায় ২০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। হাসপাতালে দেখা দিয়েছে আইসিইউ ও সাধারণ কোভিড রোগীদের চিকিৎসা সংকট। এমন পরিস্থিতিতে চারটি শর্ত না মানলে সংক্রমণ কমানো সম্ভব নয়- এমন মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও ইউজিসি (ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন বা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন) অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ।

শর্তগুলো হচ্ছে- ১. সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে মাক্স ব্যবহার করা ২. সামাজিক দূরত্ব কঠোরভাবে বজায় রাখা ৩. স্বাস্থ্যবিধি সর্বতোভাবে পালন করা এবং ৪. সবার করোনার টিকা গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক।

রোববার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপনে তিনি এসব মন্তব্য করেন। অধ্যাপক আবদুল্লাহ বলেন, যতবেশি মানুষকে দ্রুত টিকা দেয়া সম্ভব হবে, করোনার বিরুদ্ধে তত বেশি নিরাপত্তা বাড়বে। এক্ষেত্রে টিকাদানের প্রচার বাড়াতে হবে। মানুষকে টিকা নিতে উৎসাহী করতে হবে। যাদের বয়স ৪০ বা তার বেশি তাদের অবশ্যই টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, এর পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে যে ১২ দফা সুপারিশ করা হয়েছিল সেটি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। দেশে করোনা সংক্রান্ত আক্রান্ত মৃত্যু হার কমাতে কোনো ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতার স্থান রাখার সুযোগ নেই। এখন যদি এসব বিধি-বিধান কঠোরভাবে পালন করা না হয় তাহলে সংক্রমণের হার এবং আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমানো কঠিন হয়ে যাবে। এমনকি পরিস্থিতি আরও সংকটময় হয়ে উঠতে পারে- এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বারবার হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখতে হবে। অপ্রয়োজনে বাইরে ঘুরাঘুরি বন্ধ রাখতে হবে। বাইরে বের হলেও অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে এবং অধিক লোকসংখ্যা রয়েছে এমন পরিবেশ এড়িয়ে চলতে হবে।

তাপমাত্রার সঙ্গে করোনা সংক্রমণের কোনো সম্পর্ক আছে কিনা- জানতে চাইলে অধ্যাপক আব্দুল্লাহ বলেন, এমন তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। তাই গরমের কারণে করোনা বাড়ছে একথা বলা ঠিক হবে না। তাই তাপমাত্রার ওপর নির্ভর না করে স্বাস্থ্যবিধির ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে।

অধ্যাপক আব্দুল্লাহ বলেন, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নিতে পারে। এর সঙ্গে সারা দেশে ব্যাপক হারে জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এক্ষেত্রে পোস্টার লিফলেট বিতরণ করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠন করে সচেতনতা কর্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। প্রয়োজনে প্রশাসনকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বলেন, জনগণ ও প্রশাসনের যৌথ অংশগ্রহণ ছাড়া এই কঠিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।

Leave a Reply