নববধূ রুমানা খাতুন। পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছে দুই মাস আগে। স্বামীর সাথে এক মাস ঘর-সংসারও করেছেন। তবে গোপনে আরেকটা বিয়ে করেছেন তিনি। এখন তাকে নিয়ে দুই স্বামীর টানাটানি শুরু হয়েছে। এমনকি তাদের মধ্যে মারামারির ঘটনাও ঘটেছে।

শুক্রবার (২২ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে দুই স্বামীর মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে ওই দুই যুবককে ধরে থানায় নিয়ে যান।

রুমানা খাতুন উপজেলার হেউটনগর গ্রামের আফিজার রহমানের মেয়ে। তাকে স্ত্রী দাবি করা দুই যুবক হলেন- উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের নবীনগর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে জুয়েল রানা (২৬) ও একই এলাকার বিলচাপড়ি গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে কাজল মিয়া (২২)।

জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে জুয়েল রানার সঙ্গে পারিবারিকভাবে রুমানা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর এক মাস সংসার করে বাবার বাড়ি বেড়াতে আসেন তিনি। এরপর আর স্বামীর বাড়ি ফিরে যাননি রুমানা। তবে রুমানাকে বাড়িতে নেয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করে ব্যর্থ হন জুয়েল।

এদিকে গতকাল শুক্রবার বিকেলে রুমানাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে কাজল মিয়ার হাত ধরে ঘুরতে দেখেন জুয়েল। এ সময় রুমানাকে স্ত্রী দাবি করে কাজলকে মারধর করেন জুয়েল। কাজলও জুয়েলকে পাল্টা মারধর করেন। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তাদের আটক করে থানায় নেয়া হয়।

রুমানা বলেন, দুই মাস আগে বাবা-মা আমার অমতে জুয়েলের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছেন। কিন্ত জুয়েলকে পছন্দ না হওয়ায় এক মাস আগে আমি নিজেই কাজলকে বিয়ে করেছি। তবে জুয়েল রানার সঙ্গে আমার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়নি। তারপরও আমি কাজলের সঙ্গে ঘর-সংসার করতে চাই।

এ বিষয়ে জুয়েল রানা ও কাজল মিয়া বলেন, রুমানা খাতুন যা বলেছে তা সঠিক। তবে দুই যুবকই রুমানাকে স্ত্রী দাবি করেন। তারা রুমানাকে নিয়েই ঘর-সংসার করতে আগ্রহী।

ধুনট থানা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল জাব্বার বলেন, এ ঘটনায় এক নারী ও দুই যুবককে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply