জেরুজালেমের পবিত্র ভূমি মসজিদ আল-আকসা সংলগ্ন আল-রাসাসি মসজিদ। ধারাবাহিক দখল ও ইহুদি বসতি স্থাপন কাজের অংশ হিসেবে এবার মুসলমানদের ব্যবহৃত আল-রাসাসি মসজিদটি বন্ধ করে দিয়েছে ইসরাইলি দখলদার বাহিনী।

আল-রাসাসি মসজিদটি ছিলো মসজিদে আকসার পাশে অবস্থিত মুসলিমদের ইবাদতের স্থান। মসজিদে আকসা বন্ধ থাকায় মুসলমানরা আল-রাসাসি মসজিদে নামাজ আদায় করতো। এবার সেটিও দখলে নিল ইসলাইল।

 জেরুজালেমের আল-রাসাসি মসজিদে জর্ডান ভিত্তিক ধর্মীয় মন্ত্রণালয়ের অনুদান প্রক্রিয়া পরিচালনার অফিস থাকার কারণে দীর্ঘ ৬ মাস এটি বন্ধ করে রেখেছিল ইসরাইল। আর এবার মসজিদটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় তারা।

এছাড়াও পূর্ব জেরুজালেমের এখানে ফিলিস্তিন জাতীয় শিক্ষা অধিদপ্তর এবং ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন অফিস অবস্থিত ছিল। এগুলোও দীর্ঘ ৬ মাস ধরে বন্ধ করে রেখেছে ইসরাইলি পুলিশ প্রশাসন।

ফিলিস্তিন এজেন্সির তথ্য মতে, ইসরাইলের ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা গত ১৩ নভেম্বর জেরুজালেমের আল-রাসাসি মসজিদের আঙিনায় প্রবেশ করে।

জর্ডানভিত্তিক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা জেরুজালেমের এ অঞ্চলে অবস্থিত খ্রিস্টান ও মুসলিম স্থাপনাগুলো পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছিল। সংস্থার লোকদের তথ্য মতে, খুব সকালে ১২৩ জন ইহুদি বসতি স্থাপনকারী আল-আকসা সংলগ্ন আল-রাসাসি মসজিদে হামলা চালায়।

ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা আল-আকসা সংলগ্ন আল-রাসাসি মসজিদের আল-মাগারিবা গেট দিয়ে প্রবেশ করে। যেখানে সব সময় ইসরাইলি পুলিশই পাহারা দিয়ে থাকে।

সমগ্র বিশ্বের মুসলিমদের কাছে আল-আকসা মসজিদে গুরুত্ব ও মর্যাদা অনেক বেশি। এটি ইসলাম ও মুসলমানদের কাছে তৃতীয় মর্যাদাপূর্ণ ইবাদতের স্থান।

আল-আকসা অঞ্চলটিকে ইহুদিরাও তাদের নিজেদের পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। তাদের দাবি প্রাচীন যুগ থেকেই তারা এখানে প্রার্থনা ঘর হিসেবে এটি ব্যবহার করে আসছে।

১৯৬৭ সালে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সময় ইসরাইল বাহিনী জেরুজালেমের পূর্ব অঞ্চলটি দখল করে নেয়। যে স্থানে রয়েছে আল-আকসা মসজিদ। তাদের এ দখল কার্যক্রম তখন থেকেই অব্যাহত।

১৯৮০ সালে এসে তারা পুরো জেরুজালেম শহরটিকে তাদের রাজধানী শহর হিসেবে দখল করে নেয়। ইসরাইলের দখল করা এ অঞ্চলের স্বীকৃতি দেয়নি বিশ্বের কোনো দেশ।

সম্প্রতি মার্কিন ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাইক পম্পে ইসরাইল কর্তৃক ইহুদি বসতি স্থাপনে জেরুজালেমে ফিলিস্তিনের বাড়ি-ঘর ও জায়গা দখল করার বিষয়টিকে বৈধ ঘোষণা করে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের দখলকে মার্কিন প্রশাসনও অবৈধ বলে আসছে।

উল্লেখ্য যে, মাইক পম্পের বৈধ স্বীকৃতির তীব্র প্রতিবাদ করেছে খ্রিস্টানদের পোপ ফ্রান্সিস ও তাদের মিত্র দেশ কানাডা। তারা মার্কিন প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তে হতবাক হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের আগে অবস্থান থেকে সরে আসায় পোপ ফ্রান্সিস তাদের সমালোচনা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

কেননা যুক্তরাষ্ট্রের এ ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ব্যাহত হবে বলেও জানান পোপ ফ্রান্সিস। ফিলিস্তিনের জনগনের প্রতি যেন অবিচার করা না হয় সে বিষয়েও সতর্ক করেন পোপ।

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরাইলের এ অবৈধ দখলদারিত্বকে মার্কিন প্রশাসন বৈধতা দেয়ায় কানাডাও তাদের নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেছে। দেশটি আগে দখলদার ইসরাইলকে সমর্থন করলেও এখন তারা ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

Leave a Reply