সিরাজুল হক, সংযুক্ত আরব আমিরাতঃ সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৬টা থেকে রাত ১০ পর্যন্ত লকডাউন শিথিল করার পর আস্তে আস্তে কিছু কিছু প্রবাসীরা শুরু করেন তাদের কর্মজীবন। আর এই কর্মজীবনে কিছুটা হলেও বেড়েছে কর্মব্যাস্ততা। সড়কে চলছে পাবলিক পরিবহন। বন্ধ থাকা ছোট-বড় দোকান পাট, শপিং মল, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও কিছু কিছু সরকারি দপ্তর ইতিমধ্যে পুনরায় চালু হয়েছে।

তবে লকডাউন থাকা অবস্থায় বিপদগ্রস্থ অসহায় প্রবাসীদের এই করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী প্রদান করা হয়। পরে আর্থিক সচ্ছলতার জন্য  ৫০ হাজার দেরহাম যা প্রায় ১১ লক্ষ টাকার অধিক নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। এই মানবতায় সেবায়  দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে কমিনিউটি ব্যক্তিত্ব ইয়াকুব সুনিক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইয়াকুব সুনিক, আবির বাংলাদেশ বিজনেস এসোসিয়েশন এর সভাপতি জুলফিকার ওসমান ও সহ-সভাপতি হারুনুর রশিদ।বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের বিরূপ প্রাদুর্ভাবে আমিরাতে ব্যবসায়ী তিন বন্ধু এই অসহায় প্রবাসীদের সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেন এই মানবতার সেবায় ।

গত সোমবার ও মঙ্গলবার আমিরাতের শারজা বিএমডব্লিউ,  আবু সাগরা, দুবাইয়ের আল মতিনা, আল নাখিল, সোনাপুর লেবার ক্যাম্প, ইন্টারন্যাশনাল সিটি ও আল কুজ এলাকায় প্রায় তিন শতাধিক প্রবাসীর মাঝে এই নগদ অর্থ বণ্টন করেন এই তিন বন্ধু। তবে বাংলাদেশ কনস্যুলেট সহ কিছু সংগঠন ও প্রবাসী ব্যবসায়ীরা খাদ্যদ্রব্য সহায়তা প্রদান করে তাদের। এতে করে ক্ষুদা নিবারণ হলেও দীর্ঘদিন কাজে না যাওয়ায় নগদ অর্থের অভাব পুরন হয়ে উঠে। দৈনন্দিন কাজে বা নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেও হিমশিম খেতে হয়েছে তাদের। এই পরিস্থিতিতে নগদ অর্থ সহায়তা পেয়ে তারা অত্যন্ত আনন্দিত।

তবে এ অবস্থায় বিপদগ্রস্থ অসহায় প্রবাসীদের এই করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের এসকল প্রবাসী বাঙালি রেমিটেন্স যোদ্ধা ও অসহায় পরিবারদের পাশে খাদ্য সহায়তা পাওয়ায় কিছুটা সস্থি ফিরে পায় এই প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধারা। কখনো সম্মিলিতভাবে কখনো ব্যক্তি উদ্যোগে সংকটাপন্ন প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ান তারা। এ ছাড়াও দুবাইয়ে বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল ও বাংলাদেশ বিজনেস এসোসিয়েশন আল আবিরের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ কনস্যুলেট পরিচালিত ত্রাণ তৎপরতায়ও অংশগ্রহণ করেন এই ব্যবসায়ীরা। তবে এই তিন ব্যবসায়ীদের প্রচেষ্টা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে মানবিক কাজে তারাও সস্তষ্ট। তারা বলেন আমরা ক্ষতিগ্রস্ত বাঙালি ভাইদের মাঝে কিছু উপহার সামগ্রী বিতরণ করতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত৷ অতীতের ন্যায় বর্তমান এবং ভবিষ্যতে আপনাদের পাশে থেকে সকল দুর্যোগের মোকাবেলা করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছি৷

বিশ্ব মানবতার একজন কর্মী হিসাবে আমরা সবাই নিজেদেরকে মানবিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত রাখব৷ সমাজে অনেক ব্যক্তি রয়েছেন যারা না খেয়ে থাকলেও কারো কাছে হাত পাততে দ্বিধাগ্রস্ত হন৷ আমাদের সকলের উচিত, নিজ নিজ অবস্থান থেকে এসব ব্যক্তির একটি তালিকা করে গোপনে উপহার সামগ্রী তাদের দ্বারে পৌঁছে দেওয়া৷ এ সময় তারা সমাজের সকল বিত্তবানদের কে অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াবার আহ্বান জানান৷

Leave a Reply