বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদতে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রশাসনের গাফিলতি ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। হলে র‌্যাগিং নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে এই হত্যাকাণ্ড এড়ানো যেত বলে মত দিয়েছে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

বুধবার (১৩ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম এ তথ্য জানান। আবরার হত্যার চার্জশিট বিষয়ে জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মনিরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ২৫ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিচ্ছে পুলিশ। আবরারকে হত্যায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন ১১ জন। এরাই আবরারকে কয়েক দফায় মারধর করেন। বাকি ১৪ জন বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্নভাবে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

তিনি বলেন, মামলার তদন্তে এখন পর্যন্ত ৩৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ঘটনার দিন রাত ১০টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত আবরারকে পেটানো হয়।

বুয়েটের হল প্রশাসনের গাফিলতি পেয়েছেন কি-না সাংবাদিকরা এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মনিরুল বলেন, হল প্রশাসনের আরও একটু সচেতন বা সতর্ক হয়ে এসব বিষয় তাদের মনিটর করার কথা। তদন্তের পার্ট হিসেবে আমরা সেভাবে এটা আনিনি। তবে সমস্ত ঘটনা বিশ্লেষণে হল অথরিটি বলতে যারা ছিলেন তাদের এক ধরনের ব্যর্থতা এখানে আমরা দেখেছি।

তিনি বলেন, এই ঘটনার মোটিভ হিসেবে এখানে একক কোনো কারণকে দায়ী করা যাচ্ছে না। কারণ এখানে একক কোনো কারণ পাওয়া যায়নি। আমরা জানতে পেরেছি ১০টার পর থেকে আবরারের ওপর নির্যাতন শুরু হয়। রাত দেড়টার দিকে ডাক্তার তাকে দেখে মৃত ঘোষণা করে। এই দীর্ঘ সময় তাকে যখন পেটানো হচ্ছিল তখন যদি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হতো তাহলে এই পরিণতি হতো না। তারা যে র‌্যাগিংয়ের নামে উচ্ছৃখল হয়ে গিয়েছিল আর সেটার জন্যই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, অভিযোগপত্রভুক্ত ২৫ আসামির মধ্যে ২১ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২১ জনের মধ্যে ১৬ জনের নাম আবরারের বাবার করা হত্যা মামলার এজাহারে আছে।

উল্লেখ্য, ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় খুন হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ। ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে ৫ অক্টোবর শনিবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ফাহাদ। এর জের ধরে ৬ অক্টোবর রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পিটুনির সময় নিহত আবরারকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায় খুনিরা।

Leave a Reply