বর্ষার শেষ দিকে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আবারো ভাঙন শুরু হয়েছে নড়িয়ায়। গত ২৪ ঘণ্টায় নড়িয়ার উত্তর কেদারপুর এলাকার বুন্না গ্রামের মসজিদ-মক্তবসহ ১৩টি পরিবারের ঘর-বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। একই সঙ্গে বিলীন হয়েছে পদ্মার ডান তীর রক্ষা বাঁধের ২০৭ মিটারও। ভাঙনের মুখে পড়েছে প্রায় আর্ধশতাধিক পরিবারের ঘর-বাড়ি। ফলে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে পদ্মা পাড়ের মানুষের।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও নড়িয়া উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানা যায়, গত বছর নড়িয়ার ভয়াবহ ভাঙনে পাঁচ হাজার ৮১টি পরিবার গৃহহীন হয়। বিলীন হয়ে যায় নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ অসংখ্য স্থাপনা। এ বছর বর্ষা মৌসুমের শেষের দিকে এসে পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে হঠাৎ করে বৃহস্প্রতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের উত্তর কেদারপুর এলাকায় ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়। এতে বুন্না গ্রামের দারুসসালাম জামে মসজিদ, তারা মিয়ার বেপারীর দ্বিতল ভবন,কাদের মুন্সী, বাদশাহ মুন্সী, মতি বেপারী, মঞ্জু বেপারী,ও রতন বেপারীর বাড়ি-ঘরসহ ১৩ টি পরিবারের ঘর-বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। একই সঙ্গে বিলীন হয়েছে পদ্মার ডান তীর রক্ষা বাঁধের ২০৭ মিটার। ভাঙনের মুখে পড়েছে প্রায় আরো অর্ধশতাধিক পরিবার। এদিকে স্থানীয়দের সহায়তায় জরুরি ভাঙন রোধে জিওব্যাগ ডাম্পিং করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এই ঘটনার পর পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম শুক্রবার সকালে ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করতে এসে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০ পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ ও ১০০ পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করেছেন।

কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উত্তর কেদারপুর পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধ ধসে পড়েছে। এতে একটি মসজিদ, পাকা বাড়ি ও ফসলি জমিসহ গাছপালা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখনো ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়ন্তী রূপা রায় বলেন, ভাঙনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভাঙন কবলিতদের নিরাপদ স্থানে সড়িয়ে নেওয়ার কাজ করছি। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কৃঞ্চ সরকার জানান, হঠাৎ পদ্মার ভাঙনে রক্ষা বাঁধের উত্তর কেদারপুর এলাকায় ধস দেখা দিয়েছে। খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনা স্থলে পৌঁছে বাঁধ রক্ষার জন্য স্থানীয়দের সহায়তায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করেছি।

পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম রক্ষা বাঁধের কাজ পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, নড়িয়ার নদীভাঙন রোধে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ পানি উন্নয়ন বোর্ড নড়িয়াকে রক্ষার জন্য সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে সর্বশক্তি নিয়োগ করে কাজ করছে। নড়িয়া অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ ভাঙন প্রবন এলাকা। গত বর্ষায় পদ্মার ভাঙনে নড়িয়ার ৫ হাজার ৮১ পরিবার গৃহহীন হয়েছিল। বিষয়টিকে মাথায় রেখে ৩৩ লাখ জিওব্যাগ ডার্ম্পিং করা হয়েছে। তার পরেও গতকাল হঠাৎ করে রক্ষা বাঁধের ২০৭ মিটার এলাকা ও ৮ থেকে ১০টি বাড়ি ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

এসময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিজি মাহফুজুর রহমান, চিফ ইঞ্জিনিয়ার কাজী তোফায়েল হোসেন, ফরিদপুর অঞ্চলের চিফ ইঞ্জিনিয়ার ওয়াহেদ উদ্দিন চৌধুরী, নড়িয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম ইসমাইল হক, নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়ন্তী রূপা রায়, শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কৃষ্ণ সরকার, নড়িয়া পৌরসভার মেয়র শহিদুল ইসলাম বাবুসহ স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

Leave a Reply