আজ স্বামী-স্ত্রী দিবস

আজ স্বামী-স্ত্রী দিবস
Spread the love

প্রথমবার্তা২৪.কম ডেস্কঃ ভ্যালেন্টাইন ডে’র বিপরীতমুখী এ দিবসটি উপহার নয় বরং সঙ্গীকে সময় দেওয়াকে প্রাধান্য দেয় বেশি।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের দেশে পালিত হচ্ছে স্বামী-স্ত্রী দিবস। এসব অঞ্চলে দিনটি পালিত হয় “ন্যাশনাল স্পাউস ডে” হিসেবে।  এই দিনটির প্রচলন কবে থেকে তা অজানা। তবু ধারণা করা হয় কোনো বিবাহিত দম্পতিই এই দিবসের প্রবর্তক হবেন।

মনে করা হয়, ১৯৮৪ সালে “সামরিক দম্পতি দিবস” প্রতিষ্ঠিত হবার পরেই জাতীয় আকারে দম্পতিরা একটি দিবস পালন করতে চাইছিল। কেননা, সামরিক দম্পতি দিবস শুধু সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

এই দিবসের জনপ্রিয়তার ফলে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যে দিনটি আজ জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে পালিত হচ্ছে।

“জাতীয় স্বামী-স্ত্রী দিবসের” সূচনা করা হয় সঙ্গীকে ধন্যবাদ জানানোর মধ্য দিয়ে। দিনটি বিবাহিত দম্পতিদের একসঙ্গে সময় কাটাতে এবং পরষ্পরের গুণগান করতে উৎসাহিত করে। ভ্যালেন্টাইনের বিপরীতমুখী এ দিবসটি উপহার নয় বরং সময় দেওয়াকে প্রাধান্য দেয় বেশি। এমনকি একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০ মিনিট সঙ্গীর হাত ধরে রাখলে বা তাকে জড়িয়ে ধরলে এমন কয়েকটি হরমোন নিসৃত হয় যা আনন্দ দেয়, সুখি বোধ করায় এবং মানসিক চাপ থেকে মুক্ত করে।

শুধুমাত্র দম্পতিদের জন্যই নয়, দিবসটি গণমাধ্যমেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে মজাদার সব তথ্য আর জরিপের জন্য। এমনই এক জরিপ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০ লক্ষ দম্পতির মধ্যে ১৭ শতাংশই এমন যাদের পূর্বে একবার বিয়ে হয়েছে। তাদের কাছে এই দিনটি শুধুমাত্র একটি দিন নয় বরং সঙ্গীকে অনুভূতি প্রকাশের একটি বিশেষ দিন।

অনেক দম্পতিই দিনটিকে তাদের বিবাহবার্ষিকীর থেকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। কেননা, এই দিনে দু’জনই কাছাকাছি থাকতে পারছেন। চলুন জেনে আসা যাক দিবসটি ঘিরে বিভিন্ন সময়ের মজাদার কিছু তথ্য –

১৮৫০’এর দশকে এই দিনে বলা হত “ইট মাস্ট হ্যাভ বিন লাভ”। কেননা, তখন দম্পতিরা আশ্রয়, সুরক্ষা এবং খাবারের জন্যই মূলত বিয়ে করতো।

১৯৮০ এর দশকে বলা হত “ভিশন অব লাভ” বা প্রেমের দর্শন। মূলত, এই সময়েই জাতীয় স্বামী-স্ত্রী দিবসের সূত্রপাত।

১৯৯৪ সালের বলা হত “উই ফাউন্ড লাভ’” বা আমরা ভালোবাসার খোঁজ পেয়েছি। ওই বছরেই জাপানে “ভাল স্বামী-স্ত্রী দিবস” পালন শুরু হয়।

২০২০ সালে এসে বলা হয় “মাই হার্ট উইল গো অন” অর্থাৎ আমার হৃদয় তোমার জন্য রইবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেও দম্পতিরা একে অপরকে শুভেচ্ছা জানায়।

বিশেষ দিনটি বিশেষ করার কিছু টিপস- 

এই দিনটি আপনার বিশেষ মানুষের সঙ্গে আরও স্মরণীয় করে রাখার কিছু টিপসও দিয়েছেন বিখ্যাত সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

১. প্রথম পরিচয়ের জায়গাটিতে ঘুরে আসতে পারেন।

২. স্বামী বা স্ত্রীর পছন্দের খাবারটি রান্না করতে পারেন।

৩. বিয়ের দিনটির কথা স্মরণ করে মজাদার গল্পগুলো করতে পারেন।

৪. এই দিনটি আপনার ভালোবাসার স্মারক। তাই সঙ্গীকে আরেকবার বুঝিয়ে দিন আপনি তাকে কতটা ভালোবাসেন।

তবে প্রমিক-প্রেমিকা, বাগদত্ত-বাগদত্তা এবং নববিবাহিতদের মন খারাপের কিছু নেই। কারণ, দিনটি তাদের জন্যও অন্তর্ভুক্ত। এই দিনটি মোটেও বৈষম্যমূলক নয় এবং কেবল বিবাহিত দম্পতির জন্য নয়। তাই আর দেরি না করে আপনার বিশেষ মানুষটিকে এখনই জানিয়ে দিন তার বিশেষত্ব।

Leave a Reply