prothombarta24

আজ রোববার দিন পেরিয়ে রাতের আঁধার নামলেই আবির্ভাব হবে অসামান্য মহাপুণ্যে ঘেরা রজনী মহাপবিত্র মহিমান্বিত লাইলাতুল মেরাজ। এই রাতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়াসালস্নাম হজরত জিব্রাইল আলাহিস্‌সালামের সঙ্গে পবিত্র কাবা থেকে ভূ-মধ্যসাগরের পূর্বতীর ফিলিস্তিনে অবস্থিত পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস হয়ে সপ্তাকাশের ওপর সিদরাতুল মুনতাহা হয়ে সত্তর হাজার নূরের পর্দা পেরিয়ে আরশে আজিমে মহান আলস্নাহ তায়ালার দিদার লাভ করেন এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের হুকুম নিয়ে দুনিয়াতে প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি অবলোকন করেন, সৃষ্টি জগতের সমস্ত কিছুর অপার রহস্য। রাসূলুলস্নাহ (সা.) এর জীবনের সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা ‘মেরাজ’।

মুসলমানরা প্রতিবছর আরবি মাস রজবের ২৭ তারিখে শবেমেরাজ উদ্‌যাপন করে থাকেন। এ দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরাও আজ কোরআনখানি, নফল সালাত, জিকির-আসকার, ওয়াজ মাহফিল, দোয়া-দরুদ পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে পবিত্র শবে মেরাজ পালন করবেন। আলস্নাহর নৈকট্য লাভের জন্য কেউ কেউ এই দিন নফল নামাজ আদায় ও রোজা রাখেন।

মেরাজ শব্দটি আরবী, অর্থ ঊর্ধ্বারোহণ। এই মেরাজের বড় দাগে অর্থ দাঁড়ায়-সপ্তম আসমান, সিদরাতুল মুনতাহা, জান্নাত-জাহান্নাম পরিদর্শন ও ধনুক কিংবা এর চেয়ে কম দূরত্বে আলস্নাহ তায়ালার নৈকট্য পর্যন্ত ভ্রমণ। এই ছিল আলস্নাহ তায়ালার মহান কুদরত, অলৌকিক নিদর্শন, নবুওয়াতের সত্যতার পক্ষে এক বিরাট আলামত। জ্ঞানীদের জন্য উপদেশ, মোমিনদের জন্য প্রমাণ, হেদায়েত, নেয়ামত, রহমত, মহান আলস্নাহর একান্ত সান্নিধ্যে হাজির হওয়া, ঊর্ধ্বালোক সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন, অদৃশ্য ভাগ্য সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান লাভ, ইহকাল ও পরকাল সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন, স্বচক্ষে জান্নাত-জাহান্নাম অবলোকন, নভোমন্ডল পরিভ্রমণ এবং সর্বোপরি এটিকে একটি অনন্য মুজিযা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

পারিভাষিক অর্থে নবুওয়াতের একাদশ সালের ২৭ রজবের বিশেষ রাতের শেষ প্রহরে হযরত মুহাম্মদ (সা.) জিব্রাইলের (আ.) সঙ্গে আলস্নাহর নির্দেশে বায়তুলস্নাহ থেকে বায়তুল মুক্বাদ্দাস পর্যন্ত ‘বোরাকে’ ভ্রমণ, অতঃপর সেখান থেকে অলৌকিক সিঁড়ির মাধ্যমে সপ্ত আসমান পেরিয়ে আরশে আলস্নাহর সান্নিধ্যে গমন, পুনরায় বায়তুল মুক্বাদ্দাস হয়ে বোরাকে আরোহণ করে প্রভাতের আগেই মক্কায় নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তনের ঘটনাকে ‘মেরাজ’ বলা হয়।

মেরাজ সম্পর্কে আলস্নাহ পবিত্র কোরআন শরিফে বলেন, ‘পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি তাঁর স্বীয় বান্দাকে রাতের বেলায় মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত ভ্রমণ করালেন, যার চতুর্দিকে আমার রহমত ঘিরে রেখেছেন- যেন আমি কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই।’

ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী, মেরাজের রজনী পার করে সকালে যখন হযরত মুহাম্মদ (সা.) এ ঘটনার বিবরণ দেন, চারদিক থেকে অলীক ও মিথ্যার অপবাদ আসতে থাকে। সবাই বায়তুল মাকদিসের অবকাঠামো জানতে চান। আলস্নাহ তার সামনে বায়তুল মাকদিসের চিত্র তুলে ধরেন, তিনি সবিস্তারে এক-একটি করে বর্ণনা প্রদান করেন, যা প্রত্যাখ্যান করার সাধ্য কারও ছিল না।

হযরত জাবের (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.)-কে তিনি বলতে শুনেন, যখন কোরাইশরা আমাকে মিথ্যারোপ করল, আমি হিজরে দন্ডায়মান হই, আলস্নাহ আমার জন্য বায়তুল মাকদিসের চিত্র তুলে ধরেন, আমি দেখে দেখে তাদের জিজ্ঞাসিত তথ্য জানিয়ে দেই। (বোখারি হা. ৪৭১০, মুসলিম হা. ১৭০)।

পবিত্র কোরআনে ঘোষিত হচ্ছে- ‘তিনি পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রিতে ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত, যার চতুর্দিকে আমি বরকতময়তার বিস্তার করেছি, তাকে আমার নিদর্শন হতে প্রদর্শনের জন্য। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্ট। (বনী ইসরাইল-১)

আলস্নাহ তায়ালা এই উম্মতের জন্য দ্বীন পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন, অধিকন্তু যে, এর ভেতর কোনো নতুন আবিষ্কার করবে, তাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হচ্ছে- ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম। (মায়েদা-৩)

অন্যত্র আলস্নাহ তায়ালা একে স্বীয় ধর্মে অনধিকার চর্চা ও তার বিপরীতে অন্য ধর্ম প্রণয়ন অভিহিত করেছেন, এরশাদ হচ্ছে- আলস্নাহর সমকক্ষ তাদের কি শরিক দেবতা আছে ? যারা তাদের জন্য আলস্নাহকে পাশ কাটিয়ে এমন ধর্ম সিদ্ধ করেছে, যার অনুমতি তিনি দেননি? যদি পূর্ব হতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না থাকত, তাদের ব্যাপারে এখনই ফয়সালা হয়ে যেত। নিশ্চয় জালিমদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (শুরা-২১)

এই রাত্রিতে উম্মতে মুহাম্মাদির প্রতি পঁচা ওয়াক্তের নামাজ ফরজ হয়। ফলে এটা খুবই ফজিলতের রাত্রি। অতএব এই রাত্রিতে যতদূর সম্ভব জেগে নফল নামাজ, জিকির-আসকার, কোরআন তেলওয়াত ও দরুদ শরিফ ইত্যাদি পাঠ করা এবং নফল নিয়তে দিবাভাগে রোজা রাখা উত্তম।

Leave a Reply