অং সান সু চি সেনাবাহিনীর হাতে আটক, মিয়ানমারে জরুরি অবস্থা জারি

মিয়ানমার সামরিক বাহিনী
Spread the love

প্রথমবার্তা২৪.কম ডেস্কঃ মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) নেত্রী অং সান সু চিকে আটক করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।

সোমবার (০১ ফেব্রুয়ারি) সেনাবাহিনীর অভিযানে তাকে আটক করা হয়। খবর বিবিসি।

এনএলডি’র মুখপাত্র মায়ো নিউনত রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সোমবার ভোরে এনএলডি নেত্রী অং সান সু চি এবং রাষ্ট্রপতি উইন মিনতকে আটক করেছে সেনাবাহিনী।

জনগণকে উত্তেজিত না হয়ে আইন অনুসারে প্রতিক্রিয়া দেখানোর আহ্বান জানান ওই মুখপাত্র।

তাদের আটকের ঘটনায় নাগরিক সরকার এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেনা অভ্যুত্থানের আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

গত বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত আসন পেয়ে বিজয় লাভ করে সু চি’র নেতৃত্বাধীন দল এনএলডি। তবে সেনাবাহিনী অভিযোগ, নির্বাচনে জালিয়াতি করে সু চি’র দল জয় লাভ করে। সেই অভিযোগেই অভিযান চালিয়ে সু চিসহ এনএলডির শীর্ষ নেতাদের আটক করা হলো।

সংসদের নবনির্বাচিত নিম্ন কক্ষের আজ সোমবার প্রথমবারের মতো বৈঠক করার কথা ছিল। অন্যদিকে সেনাবাহিনী তা স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছিল।

বিবিসির সংবাদদাতা জানিয়েছেন, রাজধানী নেপিডোতে এবং প্রধান শহর ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় সেনাবাহিনীর টহল দেখা গেছে। প্রধান প্রধান শহরগুলোতে টেলিফোন ও ইন্টারনেট লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

সৈন্যরা দেশের বিভিন্ন প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর বাসায় গিয়ে তাদের আটক করে নিয়ে যায় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে।

২০১১ সাল পর্যন্ত মিয়ানমার সামরিক বাহিনী দ্বারা শাসিত ছিল। অং সান সু চি ১৯৮৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বছর গৃহবন্দী জীবন কাটিয়েছেন। এরপর ২০১৫ সালে মিয়ানমারে অর্ধশত বছরের বেশি সময় ধরে সেনাবাহিনী ও সেনা-সমর্থিত সরকারের অবসান ঘটিয়ে সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পায় এনএলডি।

কি হয়েছিল ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে?

গত বছর ৮ নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে অং সান সু চির দল এনএলডি বড় জয় পায়। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যেখানে ৩২২টি আসনই যথেষ্ট, সেখানে এনএলডি পেয়েছে ৩৪৬টি আসন। যা প্রায় মোট আসনের ৮৩ শতাংশ। অন্যদিকে সেনাবাহিনী সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ভোটে প্রতারণার অভিযোগ তুলে ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের দাবি তোলে। এমনকি রাষ্ট্রপতি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ দায়ের করে। যদিও মিয়ানমারের নির্বাচন কমিশন ভোট কারচুপির বিষয়টি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। এরপর থেকে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনাবাহিনী ক্ষমতায় বসতে পারে-এমন আশঙ্কা করা হচ্ছিলো।

Leave a Reply